বরাকবাণী দৈনিক ডিজিটাল ডেস্ক, ১৫ মার্চঃ বহুদিন ধরে চলা জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ১৪ মার্চ ২০২৬, শনিবার গভীর রাতে প্রকাশ করা হলো অসম প্রদেশ কংগ্রেসের দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা। আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন আসনে দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। এই দ্বিতীয় তালিকায় মোট ২৩টি আসনের জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে ১৫টি আসন মিত্র দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী জোটের সমীকরণকে সামনে রেখেই কংগ্রেস তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের কৌশল নির্ধারণ করছে।
২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক তৎপরতা। ক্ষমতাসীন দল থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির প্রতিটি রাজনৈতিক দলই এখন সংগঠন শক্তিশালী করা, জোট সমীকরণ মজবুত করা এবং উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ইতিমধ্যে ৪২ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকা প্রকাশের পর থেকেই দ্বিতীয় তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
অবশেষে শনিবার রাতে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করল দলটি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্বাচন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ সংসদ সদস্য গৌরব গগৈ অসম প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণ করার পর এটিই তাঁর নেতৃত্বে প্রথম বিধানসভা নির্বাচন। তরুণ এই নেতার কৌশল, সংগঠন পরিচালনার ধরণ এবং প্রার্থী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচনে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
বিশেষ করে বিরোধী জোট গঠন নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক জল্পনা–কল্পনা চলছিল। কংগ্রেস নেতৃত্ব বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা চালিয়েছিল। পূর্ব থেকেই জোটে থাকা অসম জাতীয় পরিষদ সহ কয়েকটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রায় সম্পন্ন হলেও, রাইজর দল এর সঙ্গে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি কংগ্রেস। জানা গেছে, আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরও কংগ্রেসের তরফে নেতৃত্বদানকারী গৌরব গগৈ এবং রাইজর দলের সভাপতি অখিল গগৈ এর মধ্যে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি।
ফলে বহু জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাইজর দলকে বাদ দিয়েই বিরোধী জোটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচনে বিরোধী ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, দল সংগঠনগত শক্তি এবং জনসমর্থনের উপর ভর করেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবে।
এদিকে দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। কোন আসনে কাকে প্রার্থী করা হয়েছে, কোন আসন মিত্র দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত বিরোধী জোটের চূড়ান্ত রূপ কী দাঁড়ায়, এই সব প্রশ্নই এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
শনিবার রাতে প্রকাশিত কংগ্রেসের এই দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী কোন কোন বিধানসভা আসনে কাকে প্রার্থী করা হয়েছে, তা নিয়েই এখন আগ্রহ বাড়ছে রাজনৈতিক কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। আগামী দিনগুলোতে এই তালিকা ঘিরেই নির্বাচনী লড়াইয়ের নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দ্বিতীয় তালিকায় মোট ২৩টি আসনের জন্য প্রার্থীর নাম গোলকগঞ্জ-কার্তিক চন্দ্র রায়, বিরশিং জারুয়া-ওয়াজেদ আলি চৌধুরী,বিলাসিপাড়া-অমৃত বাদশা, মানকাচার-মহিবুর রহমান, গোয়ালপাড়া পূর্ব-আবুল কালাম রশীদ আলম, দুধনাই (এসটি)-কিশোর কুমার ব্রহ্ম, শ্রীজাংগ্রাম -নুরুল ইসলাম, মান্দিয়া-আবদুল খালেক, চামারিয়া-রকিবুদ্দিন আহমেদ, রাঙিয়া-প্রণজিৎ চৌধুরী, ডিমোরিয়া (এসসি)-কিশোর কুমার বরুয়া, নিউ গুয়াহাটি-শান্তনু বরাহ, মঙ্গলদৈ-শ্রীমতী রিজুমনি তালুকদার, হোজাই-শ্রীমতী ঝিল্লি চৌধুরী, ঢেকিয়াজুলি-বাতাশ উরাং, রাঙাপাড়া-কার্তিক চন্দ্র কুর্মি, গহপুর-ড. শংকর জ্যোতি কুতুম, ধেমাজি (এসটি)-শৈলেন সোণোয়াল, তিনসুকিয়া-ডেভিড ফুকন, টিংখং-বিপুল গগৈ, ডেরগাঁও-শ্রীমতী সাগরিকা বরা, ধলাই (এসসি) -ধ্রুবজ্যোতি পুরকায়স্থ, করিমগঞ্জ দক্ষিণ-আমিনুর রশিদ চৌধুরী


