শিলচর পলিটেকনিক্যাল কলেজের সামনে ফুটপাত দখল করে জুয়ার আসর!

অথচ অভিযোগ, সবকিছু জেনেও পুলিশ প্রশাসন যেন নীরব দর্শকের ভূমিকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই পলিটেকনিক্যাল কলেজের সামনে ফুটপাত দখল করে নানা অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। প্রথমে চা-নাস্তার দোকান কিংবা ছোটখাটো স্টল দিয়ে শুরু হলেও, এখন সেই জায়গা দখল করে প্রকাশ্যেই চলছে জুয়া। দিনের বেলাতেই লোকজন ভিড় জমিয়ে টাকা-পয়সার লেনদেনে মেতে উঠছে। আশপাশের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই অবৈধ কারবার শুধু সামাজিক পরিবেশকেই নষ্ট করছে না, বরং যুবসমাজকে বিপথে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে বহু মানুষকে মূল সড়ক দিয়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষত মেডিকেল কলেজমুখী রোগী, প্রবীণ মানুষ এবং মহিলা পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পলিটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে এই ধরনের জুয়ার আসর অত্যন্ত লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক।

তাঁদের বক্তব্য, ক্লাসে যাতায়াতের সময় ফুটপাত ব্যবহার করা যায় না বললেই চলে। দোকান, জটলা আর জুয়ার ভিড়ে রাস্তা প্রায় অবরুদ্ধ। অনেক সময় অশালীন মন্তব্য, অশান্ত পরিবেশ ও অবাঞ্ছিত লোকজনের উপস্থিতিতে ছাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতাও অনুভব করছেন। এক ছাত্রের অভিযোগ, কলেজের সামনে যদি প্রকাশ্যে জুয়া চলে, তাহলে সমাজে কী বার্তা যাচ্ছে? আমরা পড়তে আসি, কিন্তু চারপাশে যেন অসামাজিক কার্যকলাপময় পরিবেশ। প্রশাসন সব দেখেও কিছু করছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশ্ন তুলেছেন, এই অবৈধ জুয়ার কারবার কি প্রশাসনের চোখে পড়ে না? নাকি সব দেখেও অদৃশ্য কোনো কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? তাঁদের দাবি, বহুবার মৌখিক অভিযোগ জানানো হলেও কোনো স্থায়ী অভিযান বা উচ্ছেদ কার্যক্রম চোখে পড়েনি। মাঝে মাঝে লোক দেখানো তৎপরতা দেখা গেলেও, কয়েক ঘণ্টা পর ফের আগের অবস্থায় ফিরে যায় এলাকা। এক প্রবীণ বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ফুটপাত সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য, জুয়ার আড্ডা বসানোর জন্য নয়।

পুলিশ চাইলে একদিনেই এসব বন্ধ করতে পারে। কিন্তু তারা করছে না কেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। অভিযোগ আরও গুরুতর। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, জুয়ার এই আসরকে কেন্দ্র করে বাইরের অসামাজিক উপাদানদের আনাগোনাও বেড়েছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও বেসামাল হয়ে ওঠে।

এর ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নগর পরিকল্পনা ও নাগরিক শৃঙ্খলার দিক থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শহরে ফুটপাত দখল, অবৈধ বাজার, পার্কিং ও জটের সমস্যা এমনিতেই প্রকট। তার উপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে অবৈধ জুয়ার আসর এ যেন প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক নগ্ন চিত্র।

প্রশ্ন উঠছে, শহরের মাঝখানে দিনের আলোতে যদি ফুটপাত দখল করে প্রকাশ্যে জুয়া চলে, তবে আইন কোথায়? পুলিশি নজরদারি কোথায়? সাধারণ মানুষ কি তবে নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার লড়াই লড়বেন? স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে, জুয়ার আসর উচ্ছেদ করতে হবে এবং এই কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

একইসঙ্গে কলেজ ও হাসপাতালমুখী এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবিও জোরালো হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কি জনতার ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নেয়, নাকি পলিটেকনিক্যাল কলেজের সামনে ফুটপাত দখল করে চলা এই প্রকাশ্য জুয়ার আসর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। শহরবাসীর প্রশ্ন একটাই, আইনের শাসন কি কেবল কাগজে, নাকি মাঠেও তার অস্তিত্ব আছে?

Related Posts

শিলচরের লাইফলাইন মরণফাঁদে পরিণত! প্রশাসনিক উদাসীনতায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল হাজারো মানুষের

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৮ এপ্রিলঃ শিলচর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম যোগাযোগপথ মেডিকেল কলেজ রোড আজ যেন অবহেলা, ভোগান্তি ও প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনজীবনের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই…

শিলচর শহরের রাঙ্গিরখাল সংস্কার: স্থায়ী সমাধান, নাকি কংক্রিটের কসমেটিকস?

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৮ এপ্রিলঃ শিলচর শহরের দীর্ঘদিনের জমাজলের সমস্যা দূর করতে বহু প্রতীক্ষিত রাঙ্গিরখাল সংস্কার প্রকল্প একসময় আশার আলো দেখিয়েছিল শহরবাসীকে। বর্ষা এলেই জলমগ্ন হয়ে পড়া রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, বাজার…