কালাইন বাজারের তেমাথা দখলদারিতে দমবন্ধ , নো-পার্কিং জোনে অবৈধ স্ট্যান্ড!

দিনের ব্যস্ততম সময়ে তেমাথা এলাকায় দেখা যায়, নিয়ম-কানুনকে উপেক্ষা করে অবাধে দাঁড়িয়ে থাকে অটো, বাস ও ই-রিকশা। রাস্তার একাংশ জুড়ে দোকানদারদের অনিয়ন্ত্রিত দখলদারি, ফুটপাত কার্যত বেহাত ফলে পথচারীদের চলাচলও হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই এলাকা সংলগ্ন হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত ইমার্জেন্সি অ্যাক্সেস প্রায়শই যানজটে আটকে পড়ে। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্সের দ্রুত যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের তরফে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ হয়েছে। কয়েকদিনের জন্য নিয়ন্ত্রণ দেখা গেলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। পথচারী, ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের একাংশের দাবি, দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থার প্রয়োজন।

পাশাপাশি হাসপাতাল জোনের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে কঠোর নজরদারি চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। কালাইন বাজারের এই গুরুত্বপূর্ণ তেমাথা যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তবে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা জরুরি পরিষেবায় মারাত্মক ব্যাঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, এমন আশঙ্কাই এখন এলাকাবাসীর মনে ক্রমশ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চিত্র নতুন নয়, বরং বহুদিন ধরেই চলমান। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসন কি দেখেও দেখছে না? নাকি নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোথাও অদৃশ্য আপস কাজ করছে? দিনের বেলায় কালাইন বাজারে ঢুকলেই যেন স্পষ্ট বোঝা যায়, এখানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বাস্তব প্রয়োগ কার্যত ভেঙে পড়েছে।

বাজারের প্রবেশমুখেই যত্রতত্র দাঁড় করানো যাত্রীবাহী গাড়ি, রাস্তার উপরই যাত্রী ওঠানামা, অটো স্ট্যান্ডে পরিণত হওয়া নো-পার্কিং এলাকা সব মিলিয়ে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে বিপজ্জনক অবস্থা। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন, রাস্তায় চলাচল করা তো দূরের কথা, অনেক সময় পায়ে হাঁটারও জায়গা থাকে না।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, এই বিশৃঙ্খলা একটি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায়। জরুরি পরিষেবার জন্য যে রাস্তা সর্বদা ফাঁকা ও সচল থাকার কথা, সেটিই যখন দখল আর যানজটে জর্জরিত, তখন দুর্ঘটনা বা সংকটময় মুহূর্তে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো কীভাবে সম্ভব হবে, এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্স সাইরেন বাজিয়েও আটকে যায়, এ যেন হাসপাতাল জোন নয়, মৃত্যু-ঝুঁকির করিডর।

অভিযোগ উঠছে, ফুটপাতও আর পথচারীদের জন্য নেই। দোকানপাট, অস্থায়ী বসতি ও অবৈধ দখলে তা কার্যত বাজারের সম্প্রসারিত অংশে পরিণত হয়েছে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বহুগুণ। বিশেষত বয়স্ক, নারী ও স্কুলপড়ুয়াদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ, নিয়ম আছে, বোর্ড আছে, আইন আছে, কিন্তু তার বাস্তব প্রয়োগ নেই। প্রশাসনের তরফে মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান বা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী ফল দেয়নি। বরং অনেকের মতে, একদিন অভিযান, দুদিন নিয়ম তারপর আবার আগের চিত্র।

এই ধারাবাহিক ব্যর্থতায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক সদিচ্ছা নিয়েও। আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এই দখলদারি টিকে রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সরকারি কোনো স্বীকৃতি নেই, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে যে, কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার পেছনে অদৃশ্য চাপ বা প্রভাব কাজ করছে। নইলে নো-পার্কিং ও হাসপাতাল জোনে দিনের পর দিন এমন প্রকাশ্য আইনভঙ্গ চলবে কীভাবে? স্থানীয়দের একাংশ অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনাও টানছেন।

তাঁদের দাবি, কালাইন থানার প্রাক্তন ওসি মনমোহন রাউতের সময় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অন্তত শৃঙ্খলার ছাপ ছিল। নিয়মভঙ্গের বিরুদ্ধে তৎপরতা ছিল দৃশ্যমান। কিন্তু তার বদলির পর সেই কড়াকড়ি অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নেই, তবুও জনমনে তুলনা ও অসন্তোষ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসন কি শুধু দুর্ঘটনার অপেক্ষায়? কোনো বড়সড় বিপর্যয় না ঘটলে কি এই দখলদারি ও অব্যবস্থার অবসান হবে না?

এলাকার সচেতন মানুষ তাদের মত প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতাল জোন ও নো-পার্কিং এলাকায় এমন অনিয়ন্ত্রিত দখল শুধু ট্রাফিক সমস্যা নয়, এটি জননিরাপত্তার বিষয়। জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হওয়া মানে সরাসরি জীবনের ঝুঁকি। তাই শুধু মাঝে মাঝে অভিযান নয়, দরকার স্থায়ী ও কঠোর ব্যবস্থা নিয়মিত নজরদারি, বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে জরিমানা, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাকে সম্পূর্ণ নো অবস্ট্রাকশন জোন ঘোষণা করে কার্যকর প্রয়োগ। স্থানীয়দের দাবি, কালাইন বাজারকে দখলমুক্ত করে নতুন করে ট্রাফিক রূপরেখা তৈরি করা হোক।

নো-পার্কিং জোনে স্থায়ী ব্যারিকেড, নির্দিষ্ট অটো ও বাস স্ট্যান্ড, নিয়মিত পুলিশ মোতায়েন এবং সিসিটিভি নজরদারির মতো পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলেই মনে করছেন তাঁরা। কারণ কালাইন বাজারের প্রশ্ন কেবল যানজটের নয়, এটি আইন প্রয়োগ, জনস্বার্থ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের উত্তর যতদিন না মিলছে, ততদিন নো-পার্কিং বোর্ডের নীচে দাঁড়িয়ে অবাধ পার্কিং আর হসপিটাল জোন এর সামনে দখলদারির এই বিদ্রূপ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েই যাবে।

Related Posts

শিলচরের লাইফলাইন মরণফাঁদে পরিণত! প্রশাসনিক উদাসীনতায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল হাজারো মানুষের

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৮ এপ্রিলঃ শিলচর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম যোগাযোগপথ মেডিকেল কলেজ রোড আজ যেন অবহেলা, ভোগান্তি ও প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনজীবনের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই…

শিলচর পলিটেকনিক্যাল কলেজের সামনে ফুটপাত দখল করে জুয়ার আসর!

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৮ এপ্রিলঃ শিলচর শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ মেডিকেল কলেজ রোড। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন হাজার হাজার মানুষ রোগী ও তাঁদের পরিজন, ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী…