২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে বড় বার্তা-আপস নয়, এবার রুখে দাঁড়ানোর পালা, স্বচ্ছ রাজনীতির দাবিতে জনতার হুঙ্কার!

একাধিক আসনে বিজেপি ও মিত্র জোটে প্রার্থীদের পরাজয় যে শুধু মাত্র বিরোধী দলের সংগঠন বা প্রচারের কারণে নয়, তা একবাক্যে স্বীকার করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। বরং জনসাধারণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের পুনর্বার টিকিট দেওয়া এবং দলীয় সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ম্য এসব মিলিয়ে জনতার রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে তীব্র অসন্তোষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাটিগড়া ও কালাইন অঞ্চলের বহু বিজেপি ও মিত্র জোটের নেতা দীর্ঘদিন ধরে চুনাপাথর, কয়লা, নদীর পাথর, বার্মিজ সুপারি, এমনকি বাংলাদেশে গরু পাচারের মতো বেআইনি ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিকবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনিক এবং দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে তারা সেই অভিযোগগুলি ধামাচাপা দিয়ে আসছিলেন। এবারের নির্বাচনে তাদেরই অনেককে আবারও প্রার্থী করা হয়েছে। জনগণ এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং তারা এই নেতাদের প্রত্যাখ্যান করে সেই রাগ ঝেড়েছে ভোটের বাক্সে।

জনসাধারণের বক্তব্য খুবই স্পষ্ট, তারা এখন নেতৃত্ব চান, দালালি নয়। তারা এমন একজন জননেতাকে দেখতে চান যিনি সৎ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির, এবং মানুষের পাশে থাকা এক জনসেবক। এক ভোটারের কথায়, আমরা এমন কাউকে চাই না যে দিনের বেলা জনসভায় থাকে আর রাতের অন্ধকারে সিন্ডিকেটের বৈঠকে বসে।

স্থানীয় ভোটারদের একাংশের সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচিত হওয়ার পর বহু বিজেপি পঞ্চায়েত প্রতিনিধি উন্নয়নের নামে বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। রাস্তা নির্মাণ, পানীয়জলের প্রকল্প, স্কুল সংস্কারের মতো বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। অথচ অভিযোগ জমা পড়লেও প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে তারা বারবার রক্ষা পেয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পঞ্চায়েত নির্বাচন বিজেপি ও মিত্র জোটের জন্য একটি ‘ওয়েক আপ কল’। যদি দল এখনই আত্মসমালোচনায় না নামে, এবং প্রকৃত জননেতাকে টিকিট না দেয়, তাহলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেতে হবে। প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না আনা গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এই নির্বাচনের আরেকটি দিক হলো, মানুষ এখন আগের মতো চুপ করে থাকে না।

তারা সচেতন, সোচ্চার এবং রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখে ভোট দেয়। যে কারণে শুধু দলের নাম, প্রতীকের জোর বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচার এখন আর যথেষ্ট নয়। স্থানীয় প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, ভাবমূর্তি এবং জনসংযোগই এখন বড় ফ্যাক্টর। এখন বিজেপি ও মিত্র জোটের  সামনে একটাই প্রশ্ন তারা কি জনগণের বার্তা বুঝতে পারবে? তারা কি নিজেদের ভেতরের সিন্ডিকেট চক্র ভাঙতে পারবে? যদি না পারে, তাহলে কাটিগড়ার মতো আরও বহু অঞ্চলেই তাদের সামনে আসবে কঠিন সময়।

জনগণ চায় একজন এমন নেতা, যার বিরুদ্ধে নেই কোনো দুর্নীতির অভিযোগ, যিনি রাজনীতি করেন জনগণের স্বার্থে নিজের স্বার্থে নয়। এই বার্তা স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয় বিজেপি ও মিত্র জোটের সেই বার্তা গ্রহণ করে নিজের ভুল শুধরে নিতে পারে কিনা।

Related Posts

আদালতের নির্দেশ ছাড়াই দোকান ভাঙার নোটিশ, শিলচর পৌর নিগমের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ী

বরাকবাণী প্রতিবেদন শিলচর ২৬ জুলাইঃ শিলচর শহরের বুকে আবারও প্রশ্নের মুখে মানবিকতা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা। বিকলাঙ্গ এক দোকানদারের মাথার উপর থেকে যেন রাতারাতি ছিনিয়ে নেওয়া হল ছাদ, পুড়িয়ে দেওয়া হল পঁচিশ বছরের…

লঙ্গাই প্ল্যান্টের পাশে ৮৬ কোটি টাকার নতুন জল প্রকল্পের কাজের শুভারম্ভ, ২৭ জুলাই মন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বরুয়ার হাতে ভূমিপূজন

হর্ষিত দত্ত বরাকবাণী প্রতিনিধি  শ্রীভূমি ২৬ জুলাই: শহর শ্রীভূমির  পানীয়জলের সমস্যা দূর করতে এবার নতুন জল প্রকল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বর্তমান লঙ্গাই প্ল্যান্টের পাশেই…