বিকেল ৪টায় সাংবাদিক বৈঠকে সময়সূচি জানাবে নির্বাচন কমিশন; অধিকাংশ রাজ্যে এক দফায়, পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোটের সম্ভাবনা
বরাকবাণী দৈনিক ডিজিটাল ডেস্ক, ১৫ মার্চঃ রবিবার ঘোষণা করা হতে পারে অসমসহ দেশের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য—পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের সময়সূচি। বিকেল ৪টায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করতে চলেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সন্ধু ও বিবেক যোশী রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকেই চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে। ফলে নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
মেয়াদ শেষের মুখে একাধিক বিধানসভা
আগামী মে ও জুন মাসে এই নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলির বর্তমান বিধানসভার কার্যকাল শেষ হয়ে যাচ্ছে। সেই কারণে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে নতুন সরকার গঠনের জন্য নির্বাচন আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ৭ মে শেষ হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ, ১০ মে শেষ হবে তামিলনাড়ুর বিধানসভার কার্যকাল, ২০ মে শেষ হবে অসম বিধানসভার মেয়াদ, ২৩ মে শেষ হবে কেরালার বিধানসভার কার্যকাল এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বড় দায়িত্ব রয়েছে।

২০২১ সালের তুলনায় কম দফায় ভোটের সম্ভাবনা
২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন আট দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এবার সেই অভিজ্ঞতার আলোকে নির্বাচন কমিশন কম সময়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দিকে নজর দিচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অসম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরিতে এক দফাতেই ভোটগ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে আগের তুলনায় কম দফায় নির্বাচন হতে পারে। প্রাথমিকভাবে দুই দফায় ভোটগ্রহণের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অসমে যথাক্রমে দুই ও তিন দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অন্যদিকে কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে সাধারণত এক দফাতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পশ্চিমবঙ্গে অতীতে সাত বা আট দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে।
প্রচার ময়দানে ইতিমধ্যেই তৎপর রাজনৈতিক দল
এদিকে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার আগেই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি অসম ও পশ্চিমবঙ্গে জনসভা করে নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করেছেন। শিলচরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অসমের উন্নয়নের প্রসঙ্গে পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও কংগ্রেস সরকার রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ রোধে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণ (SIR) প্রক্রিয়ার সময় তৃণমূল শিবির অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক
এদিকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণ (এস আই আর) প্রক্রিয়া ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তুলেছে যে এই প্রক্রিয়ার সময় পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের দাবিতে বিরোধীরা গত সপ্তাহে সংসদের দুই কক্ষেই প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। ফলে নির্বাচন ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে।
নির্বাচন প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছে কমিশন
এর আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এর নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ বেঞ্চ বিভিন্ন রাজ্য সফর করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে। এই দলটি অসম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরি সফর করে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটগ্রহণের অবকাঠামো খতিয়ে দেখে। পশ্চিমবঙ্গ সফরও সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে। সেই সফরের পরই নির্বাচন ঘোষণার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোথায় কত আসন
নির্বাচন হতে যাওয়া রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট আসনের সংখ্যা হল, অসম: ১২৬, পশ্চিমবঙ্গ: ২৯৪, কেরালা: ১৪০, তামিলনাড়ু: ২৩৪, পুদুচেরি: ৩৩ (এর মধ্যে ৩০ জন নির্বাচিত ও ৩ জন মনোনীত সদস্য)
বর্তমানে কোন রাজ্যে কোন দলের সরকার
বর্তমানে এই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ক্ষমতায় রয়েছে, অসম: ভারতীয় জনতা পার্টি, পশ্চিমবঙ্গ: অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, কেরালা: বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ), তামিলনাড়ু: দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম, পুদুচেরি: অল ইন্ডিয়া এন.আর. কংগ্রেস
বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই রাজ্যগুলিতে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক দলগুলো ইতিমধ্যেই সংগঠনকে চাঙ্গা করতে মাঠে নেমে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন কেবল রাজ্য রাজনীতির জন্য নয়, জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে। ফলে নির্বাচন ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।


