এবারের নির্বাচনে বিজেপি নয়, লড়াই কংগ্রেস বনাম কংগ্রেসের দুই শিবিরের লড়াই, গৌরব গগৈয়ের বিস্ফোরক মন্তব্যে উত্তপ্ত অসম রাজনীতি

মাজুলিতে কংগ্রেস প্রার্থী ডা. ইন্দ্রনীল পেগুর সমর্থনে প্রচারসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে গৌরব গগৈ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, বাইরে থেকে এই লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে মনে হলেও বাস্তবে এটি হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসেরই একটি রূপ, যা বর্তমানে বিজেপির নামে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন কিছু সিদ্ধান্ত ও কাজ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ-এর সরকারের ভাবমূর্তিতে দাগ ফেলেছিল। এর ফলেই সাধারণ মানুষের একটি অংশ কংগ্রেস থেকে দূরে সরে যায়। তবে বর্তমানে কংগ্রেস নতুনভাবে সংগঠিত হচ্ছে এবং তরুণ গগৈয়ের আদর্শকে সামনে রেখে এগোচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

গৌরব অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের প্রাক্তন নেতারা এখন বিজেপির দফতরে ভিড় করছেন মন্ত্রীপদ, বিধায়ক পদ কিংবা অন্যান্য সুযোগের আশায়। অন্যদিকে কংগ্রেসে যারা রয়েছেন, তারা আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতির পথেই এগোচ্ছেন। তাঁর কথায়, আমাদের কংগ্রেস নতুন শক্তি ও নতুন মুখ নিয়ে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতের প্রতীক।

গৌরব স্পষ্ট করে দেন, এই নির্বাচন আসলে দুই ধরনের কংগ্রেসের মধ্যে লড়াই একদিকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস, অন্যদিকে তরুণ গগৈয়ের আদর্শে পরিচালিত কংগ্রেস। কোনটিকে মানুষ বেছে নেবেন, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন। দলত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যাওয়া নেতাদের কারণে দলের ক্ষতি হয়নি, বরং শক্তি বেড়েছে।

তাঁর দাবি, লোকসভা নির্বাচনের সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকেও বিজেপিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কংগ্রেসের গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পায়। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে গৌরব বলেন, তাঁর শাসনামলে ভয় দেখানো, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মিথ্যা প্রচারই বিজেপির প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এতে স্পষ্ট যে, কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

এই নির্বাচনে কংগ্রেস যুবসমাজের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি জানান এবং মাজুলিতে ডা. ইন্দ্রনীল পেগুর জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিতাবর কেন্দ্রের বিধায়ক ভাস্কর বরুয়ার টিকিট না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ দলের কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এদিকে খোয়াং সহ বিভিন্ন এলাকায় বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের ডাক দেন গৌরব গগৈ। তিনি কংগ্রেস, অসম জাতীয় পরিষদ, সিপিআই, রাইজর দল সহ সব বিরোধী দলের কর্মী ও সমর্থকদের লুরিনজ্যোতি গগৈয়ের পক্ষে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান।

তাঁর মতে, বৃহত্তর স্বার্থে এই ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক সভায় তিনি বলেন, রাজ্যের বিরোধী জোট এখন সম্পূর্ণভাবে সুসংহত হয়েছে এবং রাইজর দলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এই জোট আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে অপসারণ করলেই একটি নতুন ও বৃহত্তর অসম গড়ে তোলা সম্ভব। এদিন গৌরব বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সম্পদ ও জমির কেন্দ্রীকরণের অভিযোগও তোলেন। তাঁর দাবি, এক ব্যক্তি ও একটি পরিবারের হাতে বিপুল সম্পদ জমা হচ্ছে এবং জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম ঘটছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী জোট ক্ষমতায় এলে কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় ঠিকাদারদের সময়মতো অর্থ প্রদান করা হবে এবং গ্রাম ও শহরের স্থানীয় উদ্যোগপতিদের আরও বেশি সহায়তা দেওয়া হবে। নির্বাচনের আগে গৌরব গগৈয়ের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই দুই কংগ্রেস এর তত্ত্ব ভোটারদের উপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

Related Posts

বিজেপির সঙ্গে তিন দশকের সম্পর্ক ছিন্ন, ময়দানে জয়ন্ত দাস

বরাকবাণী ডিজিটাল শিলচর ২২ মার্চঃ অবশেষে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ছাড়লেন দলের প্রবীণ নেতা তথা দিছপুৰ কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের টিকিট প্রত্যাশী জয়ন্ত কুমার দাস। টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভে দলত্যাগ করে তিনি…

অসমসহ ৪ রাজ্য ও পুদুচেরি বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা আজ

বিকেল ৪টায় সাংবাদিক বৈঠকে সময়সূচি জানাবে নির্বাচন কমিশন; অধিকাংশ রাজ্যে এক দফায়, পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোটের সম্ভাবনা বরাকবাণী দৈনিক ডিজিটাল ডেস্ক, ১৫ মার্চঃ রবিবার ঘোষণা করা হতে পারে অসমসহ দেশের…