শিলচরে নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে হিমন্ত সরকারের স্বৈরাচারী উচ্ছেদ নীতির তীব্র নিন্দা সিআরপিসির

মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী, গৌহাটি হাইকোর্টের প্রবীণ সদস্য এবং নর্থ ইস্ট বার কাউন্সিলের প্রাক্তন সভাপতি হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক নিরঞ্জন দত্ত, সিআরপিসির সাধারণ সম্পাদক কিশোর ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট আইনজীবী আলী রেজা উসমানী, সমাজকর্মী সমীরণ চৌধুরী, সাধন পুরকায়স্থ, আইনজীবী দেবরাজ চৌধুরী এবং প্রবীণ বুদ্ধিজীবী মজমুল হক মজুমদার প্রমুখ।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, আদালত এবং ট্রাইব্যুনালকে পাশ কাটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই যেভাবে বিদেশি ও অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা করছেন, তা সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী। এইভাবে উচ্ছেদ চালানো একপ্রকার জঙ্গলের শাসন কায়েম করার নামান্তর। তিনি আরও বলেন, সরকার চাইলে উন্নয়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে পারে, তবে তার জন্য আছে নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতি যেখানে ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং মানবিক পুনর্গঠনের বিধান স্পষ্টভাবে বলা আছে।

অথচ, বর্তমান শাসকদল সেই সমস্ত প্রক্রিয়া বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, একের পর এক পরিবারকে রাস্তায় নামিয়ে ফেলছে। সভায় এ বিষয়ে বলা হয়, সরকারি জমি দখলমুক্ত করার নামে প্রশাসনিক সন্ত্রাস চলছে। যাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তারা বছরের পর বছর ধরে সেই জমিতে বাস করছে, বৈধ পরিচয়পত্র রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাদের বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে রাতারাতি ঘরছাড়া করা হচ্ছে।

এই অগণতান্ত্রিক অবস্থার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে সিআরপিসি। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, খুব শীঘ্রই দিল্লিতে একটি জাতীয় স্তরের আলোচনাচক্র আয়োজন করা হবে। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানবাধিকার কর্মী, বিচারপ্রার্থী আইনজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এই সেমিনারের মাধ্যমে আসামে চলা উচ্ছেদের নামে নিপীড়ন –এর বাস্তব চিত্র জাতীয় স্তরের নাগরিকদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আইনি দিক থেকেও সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সিআরপিসি। সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মামলা করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে বলে জানা যায়। সভায় উপস্থিত সকলেই একবাক্যে বলেন, ভারতবর্ষ শুধু সংখ্যাগুরুদের নয়, এটি ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক দেশ যেখানে সংখ্যালঘুদেরও সমান অধিকার রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য যে তিনি বাংলাদেশিদের উৎখাত করছেন, তা নিছকই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনী কৌশল বলেই মনে করেন আলোচকরা।

সভা শেষে হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়ে, সন্তানদের স্কুলছুট করে, পরিবারকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে কোনও সরকার উন্নয়নের দাবি করতে পারে না। এ লজ্জা, এ অন্যায় শুধু অসম নয়, গোটা দেশের জন্য লজ্জাজনক। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, যাতে গণতন্ত্রের উপর আঘাত ও নাগরিক অধিকার হরণের এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সবাই একসঙ্গে প্রতিবাদে সোচ্চার হন।

Related Posts

শিলচর সোনাই রোডে নিম্নমানের ড্রেন নির্মাণে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা

বরাকবাণী প্রতিবেদন শিলচর ২২ নভেম্বরঃ শিলচর সোনাই রোডের কাস্টম কোয়ার্টারের পাশ দিয়ে চলা নতুন ড্রেন নির্মাণ নিয়ে চরম অসন্তোষ ছড়িয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। এনএইচআইডিসিএল-এর অধীনস্থ ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও…

শিলচর–হাফলং সৌরাষ্ট্র মহাসড়ক চূড়ান্ত পর্যায়ে, জানুয়ারি থেকে স্বাভাবিক হবে যান চলাচল

বরাকবাণী প্রতিবেদন শিলচর ২৩ নভেম্বরঃ শিলচর থেকে হাফলং-বরাক উপত্যকাকে পাহাড়ি জেলার সঙ্গে সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগে যুক্ত করতে বহু প্রতীক্ষিত সৌরাষ্ট্র মহাসড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। শনিবার নিজে সরজমিনে সেই…