
বরাকবাণী প্রতিবেদন , কাটিগড়া, ১৬ মে, এক পশলা বৃষ্টিতেই বিপদজনক হয়ে উঠছে টিআরকে সড়কে থাকা দুটি সাবওয়ে। শুধু সাবওয়ে নয়, সড়কের স্থানে স্থানে থাকা গর্তগুলোও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সংস্কার কাজ চলাকালীন সড়কের এই বেহাল অবস্থা কোনো ভাবেই ভালো চোখে দেখছেন না স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ। কচ্ছপ গতিতে চলা সড়কের মেরামত কাজ নিয়েও বিরাজ করছে ক্ষোভ। পুর্ত বিভাগের ভুমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
পূর্বকাটিগড়ার লাইফলাইন খ্যাত তিলাইন-রাজনগর-কাটিগড়া (টিআরকে) সড়কের শান্তিপুর থেকে চৌরঙ্গী অংশে সংস্কার কাজ দীর্ঘ এক বছর থেকে চললেও কাজের অগ্রগতি খুব একটা এগোয়নি। কচ্ছপ গতিতে ঠিকাদার সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে বিভাগীয় কর্তাদের কোনো হেলদোলও চোখে পড়ছে না। কাজের অগ্রগতি বলতে রাস্তার দুপাশে বর্ধিত অংশে মাটি ভরাট করে কিছুটা কাজ করা হয়েছে।
ব্যস এটুকুই। বর্তমানে টিআরকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বেহাল অবস্থা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গোবিন্দপুরে কালভার্ট নির্মাণের জন্য দেওয়া সাবওয়ে বিপদজনক হয়ে উঠেছে। একইভাবে তারিনীপুরে থাকা একটি সাবওয়েও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি গোটা রাস্তাজুড়ে থাকা জলে-কাদায় নাজেহাল হচ্ছেন নিত্য যাত্রীরা। এই কয়দিন থেকে যান-বাহন চলাচলে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
পূর্ত বিভাগের বড়খলা ও কাটিগড়া টেরিটরিয়্যাল ডিভিশন কার্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত টিআরকে সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে কাটিগড়া চৌরঙ্গী বাজার এলাকা থেকে তারিনীপুর পর্যন্ত সড়কটির স্থানে স্থানে পুকুরসম গর্তের সৃষ্টি হয়ে সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে পূর্ব কাটিগড়ার দুধপুর-গণিরগ্রাম, ফুলবাড়ী তারীনিপুর ও গোবিন্দপুর জিপির প্রায় পঁচিশ থেকে রাজস্ব গ্রামের জনগণ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল কলেজে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীবাহী বাস সহ ছোট বড় যানবাহনের যাত্রী, বিশেষ করে মুমুর্ষ রোগী, গর্ভবতী, মহিলা নিত্যযাত্রীরা। দীর্ঘদিন থেকে হাজার হাজার জনগণ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য নাজেহাল হলেও রহস্যজনক ভাবে নিরব ভূমিকা পালন করছেন। একইভাবে বরাত পেয়েও প্রগতি এন্টারপ্রাইজ দীর্ঘ একবছর থেকে কচ্ছপ গতিতে কাজ করার পিছনে কী রহস্য? জানাগেছে, মুখ্যমন্ত্রী উন্নত পাকাপথ প্রকল্পের অধীনে কাটিগড়া বা অন্যান্য এলাকায় যেসকল মঞ্জুরী বরাদ্দ হয়েছে তার বেশিরভাগ কাজের সমাপ্তি হওয়ার পথে। অথচ এই একইসময়ে বরাদ্দ হওয়া টিআরকে সড়কের চৌরঙ্গী টু শান্তিপুর অংশে এতো ধীরে ধীরে কাজ করার পিছনে কি রহস্য থাকতে পারে? এনিয়ে দেখা দিয়েছে হাজার প্রশ্ন।