মৃত্যুফাঁদে পরিণত ক্যাপিটাল পয়েন্ট–রাঙ্গিরখাড়ি সড়কে, এনএইচআইডিসিএলের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিনিধিদল

পথচারী থেকে শুরু করে বাইক, গাড়ি কিংবা পণ্যবাহী ভারী যান সবাইকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গর্তগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়ায় বোঝার উপায় থাকে না কোথায় কতটা গভীর খাদ লুকিয়ে আছে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে দুচাকার চালকদের জন্য এই রাস্তা এখন কার্যত এক ‘মৃত্যুফাঁদ’। বহু ক্ষেত্রে বাইক আরোহীরা ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যাচ্ছেন, আহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার অবসান ঘটানোর কোনও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। স্থানীয়দের মতে, সংস্কারের সময় নিম্নমানের কাজ হওয়ার ফলেই এত অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার এই বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে। শহরের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই দুরবস্থা শুধু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে না, বরং প্রশাসনের কাজের মান নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে। এই ক্রমবর্ধমান সমস্যাকে সামনে রেখে অবশেষে সরব হলেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।

বিমলেন্দু রায়, পুলক দাস, সুজিত রায়সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রাক্তন সাংসদ ডা. রাজদীপ রায়ের পরামর্শে সোমবার জাতীয় সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিগম লিমিটেড (এনএইচএআইডিসিএল)-এর জেনারেল ম্যানেজার (প্রকল্প) হিমাংশু গুপ্তর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকারে প্রতিনিধিদল সড়কের বেহাল অবস্থার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে। বিমলেন্দু রায় স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই রাস্তা এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষ আহত হচ্ছে। অথচ কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি আসতে এত দেরি কেন?

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার হওয়ার পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই দশা হতে পারে? কাজের গুণমান নিয়ে কি কোনও নজরদারি ছিল না? যদি থেকে থাকে, তবে তার ফলাফল কোথায়? স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির অভাবই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। একদিকে সরকারি অর্থের অপচয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা এই দুইয়ের মাঝে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শহরবাসীকে।

এদিকে, প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনার পর এনএইচআইডিসিএল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। খুব শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলির মেরামতির কাজ শুরু হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে এই আশ্বাস নতুন নয়, এর আগেও একাধিকবার এমন প্রতিশ্রুতি মিলেছে, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব কমই দেখা গেছে। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই আশ্বাস কি বাস্তবায়িত হবে, নাকি আবারও সময়ের গর্ভে হারিয়ে যাবে?

এদিকে শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্যাপিটাল পয়েন্ট রাঙ্গিরখাড়ির বর্তমান অবস্থা আজ যেন এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। যে রাস্তা প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা, সেই পথই এখন পরিণত হয়েছে আতঙ্কের আরেক নাম হিসেবে। বড় বড় গর্ত, অসমতল পিচ এবং সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন বিপজ্জনক অংশ, সব মিলিয়ে এই সড়ক যেন এক অঘোষিত বিপদসঙ্কেত বহন করছে প্রতিনিয়ত।

এই করুণ পরিস্থিতি কেবল একটি সড়কের অব্যবস্থাপনার চিত্র নয়; বরং এটি আরও গভীর এক প্রশাসনিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়। পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে যে বিস্তর ফাঁক থেকে যায়, তারই প্রকট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই রাস্তা। কয়েক মাস আগেও যে সড়কের সংস্কারে ব্যয় হয়েছে বিপুল অর্থ, আজ সেই সড়কই প্রশ্নের মুখে কাজের মান, তদারকি এবং দায়বদ্ধতা সবকিছু নিয়েই উঠছে একের পর এক প্রশ্ন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়া, স্কুল-কলেজে যাতায়াত, জরুরি পরিষেবা সব ক্ষেত্রেই এই সড়কের বেহাল দশা হয়ে উঠেছে বড় বাধা। দুর্ঘটনার আশঙ্কা এখন আর সম্ভাবনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা হয়ে উঠেছে নিত্যদিনের বাস্তবতা।

বাইক আরোহী থেকে শুরু করে পথচারী, কেউই নিরাপদ নন এই পথে চলতে গিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভে ফুঁসছেন শহরবাসী। তাঁদের প্রশ্ন, কেন বারবার একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি? কেন কোটি টাকার প্রকল্প কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়ে? এবং সবচেয়ে বড় কথা, এই ব্যর্থতার দায়ভার কে নেবে?

মানুষ এখন আর সাময়িক প্রলেপে বিশ্বাস রাখতে চাইছেন না। তাঁদের একটাই স্পষ্ট দাবি অস্থায়ী মেরামতি নয়, চাই স্থায়ী, টেকসই এবং মানসম্মত সমাধান। কারণ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল মানেই এখন এক অজানা ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়া, যেখানে সামান্য অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে বড় দুর্ঘটনা।

এখন সকলের নজর প্রশাসনের দিকে। আশ্বাসের বৃত্ত ভেঙে বাস্তব পদক্ষেপে কতটা দ্রুত এগোতে পারে কর্তৃপক্ষ, সেটাই দেখার। কারণ এই সমস্যা আর শুধু অবকাঠামোগত নয়, এটি এখন জননিরাপত্তা ও জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এক জ্বলন্ত ইস্যু।

Related Posts

লক্ষীপুরে কংগ্রেসের ভরাডুবির নেপথ্যে প্রার্থী রহস্য!

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, ২৫ এপ্রিলঃ আসামের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে বিরোধী শিবিরের সক্রিয়তা, জোট রাজনীতি এবং শাসকবিরোধী হাওয়া যখন রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দিচ্ছিল, ঠিক তখনই ব্যতিক্রমী চিত্র ধরা পড়ে…

৪২ কোটি টাকার প্রকল্পে চার বছরে এক কিলোমিটারও নয়, সর্ষের মধ্যেই ভূত দেখছেন শিলচরবাসী

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, ২৫ এপ্রিলঃ শিলচর শহরের জল নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান প্রাণরেখা রাঙ্গিরখালকে কেন্দ্র করে যে আশার আলো দেখানো হয়েছিল, আজ তা অনেকটাই অনিশ্চয়তার কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে। যে প্রকল্পকে শহরবাসীর…