বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, ২৫ এপ্রিলঃ দক্ষিণ করিমগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র নিলামবাজারে গত কয়েকদিন ধরে দুষ্কৃতীদের বাড়বাড়ন্তে কার্যত নাজেহাল হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। ড্রাগসের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় এক ব্যবসায়ীর উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে নিলামবাজার থানার পুলিশ, একের পর এক অভিযানে মিলছে সাফল্য।
ঘটনার সূত্রপাত, স্থানীয় ব্যবসায়ী সুধীর চন্দ নিলামবাজার এলাকায় ড্রাগস সেবন ও দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে তাঁর উপর চড়াও হয় একদল দুর্বৃত্ত। অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে আক্রমণ করা হয়। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ মূল অভিযুক্ত জামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়, বর্তমানে সে হাজতে রয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
শুধু এই ঘটনাই নয়, নিলামবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা বিভিন্ন অবৈধ সিন্ডিকেট, বিশেষ করে গরু পাচার ও ড্রাগস মাফিয়াদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। সম্প্রতি বারই গ্রামের এক গরু সিন্ডিকেটের আস্তানা থেকে একটি গরু ও একটি ইয়েন গাড়ি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। যদিও এই চক্রের মূল অভিযুক্ত বিলাল উদ্দিন এখনও পলাতক, তবে তাকে ধরতে অভিযান জারি রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত এবং একটি সুসংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো চক্রটিকে ভেঙে দিতে তারা বদ্ধপরিকর এবং তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
এদিকে, নিলামবাজার থানায় গত কয়েকদিনে গরু চুরির একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই গতরাতে সুপ্রাকান্দি এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গরুগুলি যথাযথ প্রমাণ পেশের ভিত্তিতে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবিমল নাথ।
স্থানীয়দের মতে, একসময় শান্তিপূর্ণ এই এলাকায় হঠাৎ করে দুষ্কৃতীদের সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে বলেই মত সাধারণ মানুষের। তবুও তাঁদের দাবি, এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত কঠোর নজরদারি ও টহল অব্যাহত রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে, নিলামবাজারে অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয়তা নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এখন দেখার, পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং গোটা সিন্ডিকেট চক্রকে ভেঙে দিতে প্রশাসন কতটা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ দ্রুত ফিরে আসুক তাঁদের প্রিয় নিলামবাজারে।


