বরাকবাণী দৈনিক ডিজিটাল ডেস্ক, ১৫ মার্চঃ লক্ষীপুরে হঠাৎ করেই রন্ধন গ্যাসকে কেন্দ্র করে চরম অস্থিরতা ও দুর্ভোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে লক্ষীপুর শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের অভাব দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে সন্তোষ গ্যাস এজেন্সির সামনে প্রতিদিন সকাল থেকেই গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন ও ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়ার আশায় বহু মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খালি হাতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
জানা গেছে, সন্তোষ গ্যাস এজেন্সির অধীনে লক্ষীপুর শহরসহ শহরতলীর বহু এলাকায় হকারদের মাধ্যমে ঘরে ঘরে রন্ধন গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এতদিন সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজেই সিলিন্ডার পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি হকাররা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তারা গ্রাহকদের জানাচ্ছেন, এখন থেকে গ্যাস পেতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যার নামে গ্যাসের বই রয়েছে তাকে সশরীরে এজেন্সিতে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক যাচাই ও কেওয়াইসি নথি জমা দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে গ্যাস বুকিং করা যাবে না এবং সিলিন্ডারও দেওয়া হবে না।
এই নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকেই সন্তোষ গ্যাস এজেন্সির সামনে প্রতিদিন ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অসংখ্য গ্রাহক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকেই কাজ শেষ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ। গ্রাহকদের দাবি, সার্ভার সমস্যার অজুহাতে অনেক সময় বায়োমেট্রিক ও কেওয়াইসি জমার কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না।
বায়োমেট্রিক ও কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক, সার্ভার সমস্যায় বুকিং বন্ধ, কালোবাজারির আশঙ্কা
ফলে বুকিং করা যাচ্ছে না এবং গ্যাস পাওয়ার আশা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। বহু পরিবারে রান্নার জ্বালানি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দিনমজুর, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, কারণ প্রতিদিন সময় বের করে লাইনে দাঁড়ানো তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী কৌশিক রায়ের বিধানসভা কেন্দ্রেই এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় সমস্যার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে গ্যাসের সংকট ঘিরে কালোবাজারির আশঙ্কাও জোরালো হয়ে উঠেছে।
অনেক গ্রাহক অভিযোগ করছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে বুকিং বন্ধ থাকলেও গোপনে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির চেষ্টা চলছে। একাধিক গ্রাহক জানান, পরিস্থিতি এমনই চলতে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই কালোবাজারে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় পৌঁছে যেতে পারে।
তবে এজেন্সির পক্ষ থেকে সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। সন্তোষ গ্যাস এজেন্সির সিংহ পদবীর এক ম্যানেজার জানান, বর্তমানে গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই। সার্ভার সমস্যার কারণে বায়োমেট্রিক ও কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগছে বলেই বুকিং সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, যেই মুহূর্তে গ্রাহকদের বায়োমেট্রিক ও কেওয়াইসি সম্পন্ন হবে, নিয়ম অনুযায়ী বুকিং নেওয়া হবে এবং বাড়িতে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে এজেন্সির এই ব্যাখ্যায় সাধারণ মানুষ খুব একটা আশ্বস্ত হতে পারছেন না।
অনেকেই বলছেন, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাজ না হওয়ায় তাদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। একজন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাজের চাপে এতদিন বায়োমেট্রিক ও কেওয়াইসি জমা দিতে পারিনি। এখন গ্যাসের জন্য এজেন্সিতে আসতে হচ্ছে, কিন্তু সার্ভার সমস্যার কারণে কাজ হচ্ছে না। ফলে গ্যাসও পাচ্ছি না।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে লক্ষীপুরবাসীর একটাই প্রশ্ন, রন্ধন গ্যাসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা নিয়ে কেন এমন অব্যবস্থা? দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন সবাই। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কত দ্রুত এই সংকট নিরসনে উদ্যোগী হয়।


