প্রথম বৃষ্টিতেই বাত্তি গোল, পাঁচগ্রাম জিএসএস-এর পিটিআর ট্রিপ করায় বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিপর্যয়, বিদ্যুৎ পরিষেবার বেহাল চিত্রে ক্ষোভে ফুঁসছে কালাইন–কাটিগড়া

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচগ্রাম জিএসএস-এর পিটিআর ট্রিপ করার ফলে ৩৩ কেভি লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ৩৩ কেভি কালাইন ফিডার এবং ৩৩ কেভি আইবিবিএল ফিডারের উপর। ফলে কালাইন, কাটিগড়া, বরজাতরাপুর, রাজাপুর, জালালপুর, দামচেরা, নীলচেরা, সোনাপুর, দিগরখাল, জারাইলতলা, বিহারা, চাঁদপুর, চন্দ্রনাথপুর সহ আশপাশের বহু এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

সন্ধ্যার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। অনেক পরিবারে রাতের রান্নাবান্না থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম ব্যাহত হয়। ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের টাওয়ার দুর্বল হয়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বিঘ্ন ঘটে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন ছোট ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা।

সন্ধ্যার সময়ই যেখানে ব্যবসার মূল ভরসা, ঠিক সেই সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক দোকানপাট আগেভাগেই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা। মুদিখানা দোকান, সেলুন, ফটোকপি সেন্টার কিংবা ছোট রেস্তোরাঁ সব ক্ষেত্রেই দেখা দেয় অচলাবস্থা। অন্যদিকে বহু এলাকায় পানীয় জলের মোটর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত সমস্যার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অনেক পরিবারকে রাতেই বিকল্পভাবে জল সংগ্রহ করতে বাধ্য হতে হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সামান্য ঝড় বা বৃষ্টি হলেই যদি পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে, তাহলে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বাস্তব অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই ধরনের সমস্যা দেখা যায়, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের দিকে বিদ্যুৎ বিভাগের তেমন কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এত বছর ধরে একই সমস্যা চলছে, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। আধুনিক প্রযুক্তির কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিষেবার মান উন্নত হচ্ছে না। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্মার্ট মিটার নিয়েও নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে এলাকায়। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, স্মার্ট মিটার বসানোর পর বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। পরিষেবার মান উন্নত না হলেও স্মার্ট মিটারের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।

গ্রাহকদের একাংশের বক্তব্য, একদিকে সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে স্মার্ট মিটারের মাধ্যমে বাড়তি বিলের বোঝা চাপানো হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি অসন্তোষ ও ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কর্মীরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছেন এবং পাঁচগ্রাম জিএসএস এর পিটিআর পুনরায় সচল হওয়ার পর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

তবে এলাকাবাসীর দাবি, কেবল অস্থায়ী মেরামত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। নইলে প্রতি মৌসুমে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াবে। কালাইন ও কাটিগড়া অঞ্চলের বাসিন্দারা মনে করছেন, দ্রুত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিকল্প ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থে বিদ্যুৎ বিভাগের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

Related Posts

মন্ত্রী কৌশিক রায়ের বিধানসভাতেই গ্যাস সংকটে নাজেহাল মানুষ

বরাকবাণী দৈনিক ডিজিটাল ডেস্ক, ১৫ মার্চঃ লক্ষীপুরে হঠাৎ করেই রন্ধন গ্যাসকে কেন্দ্র করে চরম অস্থিরতা ও দুর্ভোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে লক্ষীপুর শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার…

সোনাই বিধানসভায় ২৪টি পূর্ত সড়ক প্রকল্পের শিলান্যাস, ব্যয় প্রায় ১১ কোটি টাকা

বরাকবাণী দৈনিক ডিজিটাল ডেস্ক, ১৫ মার্চঃ উন্নয়নের ধারাকে আরও গতিশীল করতে সোনাই বিধানসভা এলাকায় একযোগে ২৪টি পূর্ত সড়ক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস করা হয়েছে। শনিবার সোনাই পুরসভার কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত সোনাই…