পারিবারিক বিবাদের জেরে গৃহবধূ খুন! সোনাইয়ে স্বামীর ধারালো অস্ত্রের কোপে প্রাণ গেল শ্যামলী রানী দাসের, পুলিশে আটক স্বামী

জানা গেছে, প্রায় দুই দশক আগে গোবিন্দনগর এলাকার বাসিন্দা সিতু দাসের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শ্যামলী রানী দাস। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তার দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না বলে অভিযোগ পরিবারের। নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন শ্যামলী। এই নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ও সামাজিক স্তরে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৭টা নাগাদ পারিবারিক কলহ হঠাৎ করেই চরম আকার ধারণ করে। সেই সময় স্বামী সিতু দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে শ্যামলী রানী দাসের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারালো দা দিয়ে তাকে একাধিকবার কোপানো হয়। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় শ্যামলীকে উদ্ধার করে দ্রুত শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শোক ও ক্ষোভে ভেঙে পড়েছে নিহতের পরিবার। শ্যামলী রানী দাসের বাবা দ্বিজেন্দ্র কুমার দাস ইতিমধ্যে সোনাই থানায় একটি লিখিত এফআইআর দায়ের করেছেন। এজাহারে স্বামী সিতু দাস সহ শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। মূল অভিযুক্ত স্বামী সিতু দাসকে ইতিমধ্যেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই পরিবারে অশান্তি চলছিল।

তবে এই ঘটনার এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। এদিকে, এই নৃশংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুরো ঘটনার তদন্ত জোরকদমে চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Posts

শিলচরের লাইফলাইন মরণফাঁদে পরিণত! প্রশাসনিক উদাসীনতায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল হাজারো মানুষের

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৮ এপ্রিলঃ শিলচর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম যোগাযোগপথ মেডিকেল কলেজ রোড আজ যেন অবহেলা, ভোগান্তি ও প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনজীবনের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই…

শিলচর পলিটেকনিক্যাল কলেজের সামনে ফুটপাত দখল করে জুয়ার আসর!

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৮ এপ্রিলঃ শিলচর শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ মেডিকেল কলেজ রোড। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন হাজার হাজার মানুষ রোগী ও তাঁদের পরিজন, ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী…