শ্রীভূমি জেলার মালুয়ায় বেপরোয়া ডাম্পারের চাকায় পিষ্ট স্কুটি আরোহী নিহত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বদরপুর দিক থেকে AS 01 GB 3145 নম্বরের স্কুটি চালিয়ে নিজের বাড়ির দিকে ফিরছিলেন খলিল উদ্দীনের ছেলে হেলাল উদ্দিন। প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে জাতীয় সড়ক ধরে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু কান্দিগ্রাম এলাকার শেট্টি ফ্লাওয়ার মিলের সামনে পৌঁছতেই ঘটে বিপর্যয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রীভূমি দিক থেকে TR 05 J 1900 নম্বরের একটি ডাম্পার অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে এসে স্কুটিটিকে সজোরে ধাক্কা মারে।

সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে স্কুটি আরোহী হেলাল উদ্দিন ডাম্পারের সামনের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। এই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন আশপাশের মানুষজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাম্পারটি অতিরিক্ত গতিতে এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছিল। এমনকি দুর্ঘটনার পর চালকের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, ভারী যানবাহনের চালকদের বেপরোয়া গতি এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন চালনাই এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে উঠছে। এই দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তীব্র প্রতিবাদ জানান। দীর্ঘক্ষণ ধরে সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, কান্দিগ্রামের শেট্টি মিলের সামনে প্রতিদিন অবৈধভাবে ট্রাক ও ডাম্পার পার্কিং করা হয়। এর ফলে সড়কের বড় অংশ দখল হয়ে থাকে এবং যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।

গ্রামবাসীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের কাছে এই সমস্যার কথা জানানো হলেও কার্যত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিনদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এদিনের ঘটনাই তার করুণ উদাহরণ বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকি একই সময়ে ওই এলাকায় আরও দুটি ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ। বদরপুর থানার ওসি তরঙ্গ পাটোয়ারী, মালুয়া আউট পোস্টের ইনচার্জ শুভম কুমার পালসহ পুলিশের একটি দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগী হন। পরে পুলিশ স্থানীয়দের বোঝানোর মাধ্যমে অবরোধ তুলে দেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

পাশাপাশি দুর্ঘটনায় জড়িত ডাম্পারটি আটক করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে মালুয়া জলালপুর ও কান্দিগ্রাম এলাকার বাসিন্দারা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ ট্রাক পার্কিং বন্ধ করতে হবে এবং ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের আও অভিযোগ, প্রতিদিন চোখের সামনে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। বড় বড় ডাম্পার ও ট্রাক রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, আর চালকেরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। প্রশাসন যদি সময়মতো ব্যবস্থা নিত, তাহলে হয়তো আজ একটি তাজা প্রাণ এভাবে ঝরে পড়ত না।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় সড়কে ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন গতি এবং অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। এলাকাবাসীর আশা, এবার অন্তত প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

Related Posts

কাটাখাল নদীর করাল গ্রাসে সিংহপুর, ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে শতাধিক বাড়ি

বরাকবাণী দৈনিক ডিজিটাল ডেস্ক, ১১ মার্চঃ হাইলাকান্দি জেলার ১১৬ নম্বর বিধানসভা এলাকার কালিনগর চতুর্থ খণ্ডের কাটাখাল সিংহপুর গ্রামে আবারও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বরাক নদীর ভয়াবহ ভাঙন। প্রকৃতির এই…

শিলচরে বিদ্যুৎ বিল সংশোধনের বিরোধিতায় সরব গ্রাহক সংগঠন

বরাকবাণী দৈনিক ডিজিটাল ডেস্ক, ১১ মার্চঃ কেন্দ্র সরকারের প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫-কে ‘চূড়ান্ত জনবিরোধী ও গ্রাহকবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের প্রতিনিধিত্বকারী সর্বভারতীয় সংগঠন অল…