শিলচরে বিদ্যুৎ বিল সংশোধনের বিরোধিতায় সরব গ্রাহক সংগঠন

অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়কদ্বয় অজয় আচার্য ও হিল্লোল ভট্টাচার্যের স্বাক্ষরিত স্মারকপত্রে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ (সংশোধনী) বিলের একাধিক বিধান মৌলিকভাবে গ্রাহকবিরোধী এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী। তাদের মতে, এই বিল কার্যকর হলে বিদ্যুৎ খাতে ২০০৩ সালের বিদ্যুৎ আইনের যে মূল নীতিমালা জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছিল, তা কার্যত লঙ্ঘিত হবে এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা ক্রমশ বাজারমুখী ও কর্পোরেটনির্ভর হয়ে পড়বে।

স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ কোনো বিলাসবহুল পণ্য নয়; বরং আধুনিক জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও শিল্প—সমস্ত ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ একটি মৌলিক ও অপরিহার্য অবকাঠামো। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে যদি বিদ্যুৎ পরিষেবাকে সম্পূর্ণভাবে বাজারের নিয়মের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিক, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের উপর তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

সংগঠনের অভিযোগ, প্রস্তাবিত এই বিলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার বেসরকারীকরণকে দ্রুততর করার পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ পরিষেবার উপর কর্পোরেট সংস্থাগুলির প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাবে এবং লাভের হিসাবই হয়ে উঠবে পরিষেবা পরিচালনার প্রধান মানদণ্ড। ফলস্বরূপ গ্রামীণ অঞ্চল, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিদ্যুৎ প্রাপ্তি ও ব্যবহার আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

স্মারকপত্রে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতকে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করার এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। কারণ, বিদ্যুৎ পরিষেবা যদি সম্পূর্ণরূপে লাভকেন্দ্রিক ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে তা জনকল্যাণমূলক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠবে। এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনের পক্ষ থেকে কেন্দ্র সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে যে, প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫ অবিলম্বে প্রত্যাহার ও বাতিল করতে হবে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ আইনে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনার আগে রাজ্য সরকার, বিদ্যুৎ খাতের কর্মচারী সংগঠন, বিশেষজ্ঞ মহল এবং বিদ্যুৎ গ্রাহক সংগঠনগুলির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সংগঠনের মতে, বিদ্যুৎ পরিষেবার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপরিষেবার ক্ষেত্রে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

এদিন শিলচরে জেলা আয়ুক্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রীর কাছে স্মারকপত্র প্রদান করার সময় উপস্থিত ছিলেন অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশনের কাছাড় জেলা কো-অর্ডিনেশন কমিটির সদস্য দীপঙ্কর চন্দ, পরিতোষ ভট্টাচার্য, খাদেজা বেগম লস্কর, প্রশান্ত ভট্টাচার্য সহ সংগঠনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা। স্মারকপত্র জমা দেওয়ার পর সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, বিদ্যুৎ পরিষেবা সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার।

তাই এই পরিষেবাকে কর্পোরেট মুনাফার হাতে তুলে দেওয়ার যে কোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধেই গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং প্রয়োজনে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার ও আধুনিকীকরণের প্রশ্নে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ (সংশোধনী) বিল ২০২৫ নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসতে পারে।

Related Posts

কাটাখাল নদীর করাল গ্রাসে সিংহপুর, ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে শতাধিক বাড়ি

বরাকবাণী দৈনিক ডিজিটাল ডেস্ক, ১১ মার্চঃ হাইলাকান্দি জেলার ১১৬ নম্বর বিধানসভা এলাকার কালিনগর চতুর্থ খণ্ডের কাটাখাল সিংহপুর গ্রামে আবারও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বরাক নদীর ভয়াবহ ভাঙন। প্রকৃতির এই…

শ্রীভূমি জেলার মালুয়ায় বেপরোয়া ডাম্পারের চাকায় পিষ্ট স্কুটি আরোহী নিহত

বরাকবাণী দৈনিক ডিজিটাল ডেস্ক, ১১ মার্চঃ শ্রীভূমি জেলার মালুয়া জলালপুর এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক স্কুটি আরোহী। বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি ডাম্পারের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়…