ওয়েবডেস্ক, বারাকবাণী, ১০ মার্চঃ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন ভাগাভাগি নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হলেও আঞ্চলিক দল রাইজর দলের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে এখনও আশাবাদী কংগ্রেস। রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে, আলোচনা স্থগিত হয়ে থাকলেও সমঝোতার পথ এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। সোমবার নয়াদিল্লিতে এক যোগদান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি গৌরব গগৈ বলেন, রাইজর দলের সঙ্গে জোট আলোচনার ইতিবাচক ফল পাওয়ার আশাই করছে কংগ্রেস।
তিনি জানান, রাইজর দলের সঙ্গে জোট আলোচনাকে কীভাবে শেষ করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের তরফে এখনও চেষ্টা চলছে এবং আমরা একটি ইতিবাচক ফলাফলের প্রত্যাশা করছি। তিনি আরও বলেন, যেসব তিনটি দলের সঙ্গে কংগ্রেস ইতিমধ্যে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেছে, তাদের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, রবিবার রাইজর দলের সভাপতি অখিল গগৈ দাবি করেন, নগাঁও জেলার ধিং বিধানসভা আসন নিয়ে মতভেদের কারণেই দুই পক্ষের মধ্যে জোট আলোচনা ভেঙে যায়। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ওই আসনটি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় আলোচনা এগোয়নি। এদিকে গুয়াহাটিতে প্রায় ১০ লক্ষ প্রচারপত্র বাজেয়াপ্ত এবং চার কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন গৌরব গগৈ।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্পর্কে অনেকেই শক্তিশালী নেতা বলে থাকলেও কয়েকটি প্রচারপত্র নিয়েই সরকার ভীত হয়ে পড়েছে। গৌরবের কথায়, এই প্রচারপত্রগুলিতে শুধু বলা হয়েছে কীভাবে বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী অসমের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি এই প্রচারপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়, তাহলে কি মানুষ সত্য জানবে না? তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই পদক্ষেপ রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশের অবনতিরই ইঙ্গিত দেয়। প্রচার সামগ্রীও যদি বাজেয়াপ্ত করা হয়, তবে গণতন্ত্র কোথায় রইল? বলেন তিনি।
এদিন নয়াদিল্লির অনুষ্ঠানে অগপর প্রাক্তন নেতা জয়ন্ত খাউন্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে দেশের উন্নয়নে কাজ করে এসেছে এবং তিনিও সেই প্রচেষ্টায় সামিল হয়ে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে চান। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জিতেন্দ্র সিং জানান, জয়ন্ত খাউন্ড কোনও শর্ত ছাড়াই দলে যোগ দিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি যদি তাঁকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করে, তবে তাঁকে নির্বাচনী টিকিট দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। এদিকে আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেসের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সোমবার নয়াদিল্লিতে গৌরব গগৈর সঙ্গে বৈঠক করেন কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার, যিনি এই নির্বাচনের জন্য দলের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
বৈঠক শেষে তিনি জানান, নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি কংগ্রেস দফতরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠন শক্তিশালী করতে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিতে তিনজন নতুন সম্পাদক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে পলাশ পবন শইকিয়া, দীপঙ্কর বরা এবং জনসন সাংমাকে এপিসিসির সম্পাদক হিসেবে অবিলম্বে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছেন। এই নিয়োগ বর্তমান সম্পাদকদের পাশাপাশি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।


