বরাকবাণী ডিজিটাল শিলচর ২২ মার্চঃ অবশেষে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ছাড়লেন দলের প্রবীণ নেতা তথা দিছপুৰ কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের টিকিট প্রত্যাশী জয়ন্ত কুমার দাস। টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভে দলত্যাগ করে তিনি দিসপুর কেন্দ্র থেকেই নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়ন্ত কুমার দাস ইতিমধ্যেই বিজেপির সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ শইকীয়ার কাছে।
প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিজেপির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকা এই নেতার আকস্মিক বিদায় স্বাভাবিকভাবেই দলীয় অন্দরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন জয়ন্ত দাস। টিকিট না পাওয়ার হতাশা থেকেই তিনি সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
এমনকি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকেও আক্রমণের নিশানায় আনেন তিনি। যদিও মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে জানিয়েছিলেন যে, জয়ন্ত দাস দলে থেকেই যাবেন এবং তাঁর অভিমান মিটে যাবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশ্বাস বাস্তবে পরিণত হলো না।
টিকিট বঞ্চনার জেরে বিজেপি ছাড়লেন জয়ন্ত দাস
দিসপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস থেকে আসা সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই জয়ন্ত দাস প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ওঠেন। তাঁর অভিযোগ দলীয় আদর্শ ও দীর্ঘদিনের কর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে নতুন মুখ ও বহিরাগতদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ক্ষোভ শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং দলের অভ্যন্তরে জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।
বিশেষ করে দীর্ঘদিনের কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার কৌশল নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। জয়ন্ত দাসকে দলে ধরে রাখতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালায় বিজেপি নেতৃত্ব। দলের জাতীয় নেতা সম্বিত পাত্র তাঁর বাসভবনে গিয়ে আলোচনাও করেন। পাশাপাশি রাজ্য সভাপতি দিলীপ শইকিয়াও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ পর্যন্ত দল ছাড়ার সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন জয়ন্ত দাস।
প্রদ্যুৎ বরদলৈকে টিকিট দেওয়ায় বিতর্ক
দলত্যাগের পর জয়ন্ত দাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দিসপুর কেন্দ্র থেকেই তিনি নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁর কথায়, এটা আমার একার সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত। দিসপুরের মানুষই আমাকে নির্বাচনে লড়তে চেয়েছেন। আমি ভেবেছিলাম টিকিট পাব, কারণ যোগ্যতার ভিত্তিতে আমি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছি।
সারাজীবন বিজেপিকে দিয়েছি, আজ সেই অবদানই যেন অস্বীকৃত হলো। ইতিমধ্যেই তিনি নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়ন্ত দাসের দলত্যাগ বিজেপির জন্য দিছপুৰ কেন্দ্রে বড় ধাক্কা হতে পারে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত জনভিত্তি থাকায় নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে তিনি ভোটের অঙ্কে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেন।
দিসপুরে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ঘোষণা
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে বিরোধীরা বিজেপির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। বিশেষ করে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় অসন্তোষ এবং নতুন বনাম পুরনো বিতর্ক এখন আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে। জয়ন্ত কুমার দাসের দলত্যাগ শুধু একজন নেতার বিদায় নয় এটি আসন্ন নির্বাচনের আগে বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইঙ্গিত। এখন নজর থাকবে, নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাঁর এই লড়াই দিসপুর কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণে কী পরিবর্তন আনে।


