ওয়েবডেস্ক, বারাকবাণী, ১০ মার্চঃ অসমের গ্রামীণ স্থানীয় সংস্থাগুলির উন্নয়নের জন্য পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের অধীনে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ২৯৯ কোটিরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই অনুদান রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠানকে উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে ২৫৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে আনটাইড গ্রান্ট হিসাবে প্রদান করা হয়েছে। এই অর্থ রাজ্যের ২৭টি জেলা পঞ্চায়েত, ১৮২টি আঞ্চলিক পঞ্চায়েত (ব্লক পঞ্চায়েত) এবং ২,১৯২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হবে। এর ফলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের অগ্রাধিকার ও জনসাধারণের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ করতে পারবে।
এছাড়াও তিনটি স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল, কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত পরিষদ এবং ডিমা হাসাও স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের জন্য মোট ৪২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে প্রশাসন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। জানা গেছে, পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রক এবং জল শক্তি মন্ত্রকের অধীন পানীয় জল ও স্যানিটেশন বিভাগ এই অনুদানের সুপারিশ করে এবং অর্থ মন্ত্রক বছরে দুই কিস্তিতে তা রাজ্যগুলিকে প্রদান করে।
আনটাইড গ্রান্ট পঞ্চায়েত রাজ প্রতিষ্ঠানগুলিকে সংবিধানের একাদশ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত ২৯টি বিষয়ের আওতায় এলাকার বিশেষ উন্নয়ন প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে টাইড গ্রান্ট মূলত স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, উন্মুক্ত শৌচমুক্ত অবস্থা বজায় রাখা এবং নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং জল পুনর্ব্যবহার প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত।
এদিকে রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকাও ক্রমশ বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কার্যালয়ের এক বার্তায় জানানো হয়েছে, প্রাইমারি এগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি (প্যাকস) রাজ্যের কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং কৃষি পরিষেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে অসমজুড়ে ১,৮৯৮টি প্রাইমারি এগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এই সংস্থাগুলি সমবায় ঋণ ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং কৃষকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রথম সংযোগ স্থাপন করে। সাধারণত এই সমবায় সংস্থাগুলি স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ প্রদান, ঋণ পরিশোধে সহায়তা এবং বীজ, সার ও কীটনাশকের মতো কৃষি উপকরণ সরবরাহ করে থাকে।
এছাড়াও প্যাকসের মাধ্যমে কৃষকরা কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (কেসিসি) ঋণ, ভর্তুকিযুক্ত কৃষি উপকরণ এবং গণবণ্টন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পরিষেবার সুবিধা পাচ্ছেন। গ্রাম বা গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে কাজ করার ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সহজেই পৌঁছাতে পারছে, যাঁদের অনেক সময় বাণিজ্যিক ব্যাংকিং পরিষেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অসমের সমবায় খাত ধীরে ধীরে গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গড়ে উঠছে। আর্থিক পরিষেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং সময়মতো কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই সংস্থাগুলি কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আয় স্থিতিশীল করা এবং অনানুষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করছে।
রাজ্য সরকার সমবায় নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। প্যাকসগুলির কম্পিউটারায়ন এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যাতে এই সংস্থাগুলির কাজ আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ হয়। কেন্দ্রের লক্ষ্য অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্যাকসকে বহু পরিষেবা প্রদানকারী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। যেখানে সংরক্ষণ, বিপণন এবং অন্যান্য গ্রামীণ পরিষেবাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বর্তমানে অসমে কৃষি, দুগ্ধ, মৎস্য, পশুপালন এবং গ্রামীণ শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হাজার হাজার সমবায় সংস্থা কাজ করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মিলিয়ে লক্ষাধিক সদস্যের জীবিকা ও আয়ের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সমবায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে এবং কৃষকদের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়াতে ভবিষ্যতেও প্যাকসের বিস্তার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।


