অসম আর শুধু চায়ের রাজ্য নয়, গড়ে উঠছে বৃহৎ শিল্পকেন্দ্র : হিমন্ত

মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, আপনারা ভাবতেন অসম শুধু চা উৎপাদন করে? হ্যাঁ, আমরা তা করি, তবে আজ আমাদের শিল্পভিত্তি সেমিকন্ডাক্টর থেকে হাইড্রোকার্বন, ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে হসপিটালিটি এবং তারও বাইরে বিস্তৃত।’ হিমন্ত বলেন, অ্যাডভান্টেজ অসম উদ্যোগ রাজ্যকে দেশের উদীয়মান শিল্প গন্তব্যগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। তাঁর কথায়, বর্তমান পর্যায়টি বৃহত্তর শিল্প রূপান্তরের সূচনা মাত্র।

সরকার নীতিগত সংস্কার, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারের সান্নিধ্য এই সব মিলিয়ে অসম বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্রমশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বলে দাবি করেন তিনি।

একইসঙ্গে শিল্প সম্প্রসারণের সুফল যাতে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপির ‘জন আশীর্বাদ যাত্রা’ ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনসমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সোমবার গহপুরে যাত্রার তৃতীয় দিনে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। সমর্থকেরা ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান এবং পথজুড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী এক্স-এ একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, সান্তা নই, কিন্তু আমার ভাগিনাদের জন্য সবসময় উপহার থাকে, এভাবে স্নেহভরে জনসাধারণকে উল্লেখ করেন তিনি।

গত দুদিনের জনসমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাড়া তাঁর প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছে। গতকাল রাত সাড়ে বারোটা পর্যন্ত মানুষ ছিলেন। জনতা পূর্ণ আশীর্বাদ দিয়েছেন। গত পাঁচ বছরে আমরা যা করেছি, মানুষ তা স্বীকার করছেন। এবারও তাঁরা আমাদের শক্তিশালী ম্যান্ডেট দেবেন বলে আশা করি, মন্তব্য করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বহু মানুষ তাঁকে ভূমির পাট্টা প্রদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আগামী পাঁচ বছরে প্রায় পাঁচ লক্ষ বিঘা কথিত দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ভূমির পাট্টা কেবলমাত্র স্বদেশি বাসিন্দাদেরই প্রদান করা হবে।

গুয়াহাটির অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবনে অবস্থিত রাজ্য বিজেপি সদর দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দলের মুখপাত্র প্রাঞ্জল কলিতা জানান, এই যাত্রা মূলত এক জনসংযোগ কর্মসূচি, যার মাধ্যমে অসমের স্বদেশি জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় দলের অঙ্গীকার প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের জন্মস্থান বটদ্রবা থান পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন কার্যক্রমও তুলে ধরা হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শোণিতপুর জেলার ঢেকিয়াজুলি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে যাত্রার সূচনা হয়।

দ্বিতীয় দিনে জাগীরোড থেকে পুনরায় কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে ৯ মার্চ পর্যন্ত চলা এই যাত্রার মাধ্যমে প্রতিদিন এক লক্ষাধিক মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শিল্পায়নের বার্তা এবং সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের ইস্যু সামনে রেখে বিজেপি আগামী নির্বাচনে উন্নয়ন ও পরিচয় রাজনীতির সমন্বিত রণকৌশল নিয়েই এগোচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রচারাভিযান কতটা ভোটে প্রতিফলিত হয়।

Related Posts

বরাকের রাজনীতিতে আইসিইউতে কংগ্রেস, সোনাই যেন সেই রোগীর মেডিকেল রিপোর্ট !

ওয়েবডেস্ক, বারাকবাণী, ১০ মার্চঃ ভারতের রাজনীতিতে প্রতিবাদের ইতিহাস দীর্ঘ এবং বহু রঙে রঙিন। রাস্তায় মিছিল, উত্তাল স্লোগান, পোস্টার-ব্যানার, এমনকি প্রতিপক্ষের কুশপুত্তলিকা দাহ এই সবই রাজনৈতিক প্রতিবাদের চেনা ছবি। কিন্তু সোনাইয়ের…

কাটিগড়ায় কমলাক্ষ ইস্যুতে গেরুয়া শিবিরে তোলপাড়, ক্ষোভে ফুটছে স্থানীয় বিজেপি শিবির

ওয়েবডেস্ক, বারাকবাণী, ৯ মার্চঃ বরাক উপত্যকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে কাটিগড়া বিধানসভা সমষ্টি। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই সমষ্টিতে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনকে ঘিরে দলীয়…