শিলচর ক্যান্সার হাসপাতালের প্রবেশদ্বারেই মরণফাঁদে পরিণত!

উন্নত চিকিৎসার আশায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের জন্য এই রাস্তা যেন এক অনিবার্য যন্ত্রণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের কথা ভাবলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। অনেকেই শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় এই পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হন, অথচ তাঁদের জন্য ন্যূনতম যাতায়াত সহায়ক পরিবেশটুকুও নিশ্চিত করা হয়নি।

এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলটি শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোড সংলগ্ন হওয়ায় প্রতিদিন এখানে বিপুল পরিমাণ যানবাহনের চাপ থাকে। অ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত গাড়ি, অটো, টোটো সব ধরনের যানবাহনই এই পথ ব্যবহার করে। কিন্তু রাস্তার বর্তমান অবস্থা এতটাই খারাপ যে, প্রতিটি যাত্রাই হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, বহু অংশে পিচ উঠে গিয়ে কঙ্কালসার চেহারা নিয়েছে।

সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো কাদায় ভরে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, আর শুকনো দিনে ধুলোর দাপটে নাক-মুখ ঢেকে চলাই দুষ্কর হয়ে পড়ে। এর ফলে শুধু যাতায়াতের অসুবিধাই নয়, জনস্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হলেও কার্যত কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। মাঝে মধ্যে নামমাত্র মেরামতির কাজ হলেও তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়ে, ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান অধরাই থেকে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী ও রোগীদের একটাই দাবি, অবিলম্বে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির সংস্কার করতে হবে এবং কাজের মান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। উন্নয়নের বড় বড় দাবি ও প্রকল্পের মাঝে যদি এমন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রের প্রবেশপথই অবহেলিত থাকে, তবে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিচয়ই নয়, মানবিক দায়িত্ববোধের চরম অভাবকেও স্পষ্ট করে তোলে।

এখনই সময় কথার চেয়ে কাজে প্রমাণ দেওয়ার। সাধারণ মানুষের এই ন্যায্য দাবি আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, এই বেহাল অবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জরুরি পরিষেবার উপর। অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি যানবাহন প্রায়ই এই সংযোগস্থলে আটকে পড়ছে। সময়ের সঙ্গে লড়াই করা রোগীদের জন্য এই বিলম্ব যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি ধীরে চলতে বাধ্য হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। বৃষ্টির সময় এই রাস্তা কাদায় পরিণত হয়, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোর দাপটে শ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে।

এছাড়াও, প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। ই-রিক্সা, অটো এবং ছোট যানবাহনগুলি গর্তে পড়ে উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে মাঝেমধ্যেই। ফলে এলাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক স্থায়ী আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন, যা সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রশ্ন উঠছে, একটি এত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রবেশপথের এই করুণ দশা কেন? কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হলেও, সেই হাসপাতালের সামনে যদি এমন বেহাল রাস্তা থাকে, তাহলে উন্নয়নের দাবিগুলো কতটা বাস্তব? অভিযোগ উঠেছে, এই অবহেলার পেছনে রয়েছে প্রশাসনিক গাফিলতি ও রাজনৈতিক উদাসীনতা। শাসক দল উন্নয়নের বড় বড় প্রচার চালালেও, বাস্তব সমস্যার সমাধানে তাদের সক্রিয়তা চোখে পড়ছে না।

অন্যদিকে, বিরোধী দলও এই ইস্যুতে কার্যকর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ। ফলে সাধারণ মানুষই হয়ে উঠছেন এই অব্যবস্থার বলি। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় যদি রাস্তার জন্য জীবন ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে? এই ক্ষোভ এখন ধীরে ধীরে তীব্র প্রতিবাদে রূপ নিচ্ছে। এলাকাবাসীরা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে পূর্ত বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটির সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

শিলচরের মানুষের ক্ষোভ আজ আর চাপা নেই, এটি শুধু একটি ভাঙাচোরা রাস্তার সমস্যা নয়, বরং জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এক গুরুতর বাস্তবতা। শিলচর এর গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রের এই প্রবেশপথ ঘিরে প্রতিদিন যে দুর্ভোগের ছবি ফুটে উঠছে, তা প্রশাসনিক উদাসীনতার এক নগ্ন প্রতিচ্ছবি বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী ও পথ ব্যবহারকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, এই রাস্তা কোনো সাধারণ যোগাযোগের পথ নয়। অসংখ্য গুরুতর অসুস্থ রোগী, বিশেষ করে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষ, প্রতিদিন এই পথ দিয়েই চিকিৎসার আশায় যাতায়াত করেন। তাঁদের জন্য প্রতিটি ধাক্কা, প্রতিটি গর্ত যেন যন্ত্রণাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে এই রাস্তার বেহাল দশা নিছক অব্যবস্থা নয়, বরং একপ্রকার মানবিক অবহেলা।

তাঁদের দাবি, অবিলম্বে টেকসই ও মানসম্মত সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। শুধু দায়সারা মেরামতি নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে রাস্তার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর এই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। পাশাপাশি, কাজের গুণমান বজায় রাখতে স্বচ্ছ নজরদারির ব্যবস্থাও জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। প্রশাসনের প্রতি এখন একটাই জোরালো প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন শিলচরের মানুষ, আর কতদিন চলবে এই অবহেলা?

কোনো বড় দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির পরই কি তৎপর হবে কর্তৃপক্ষ? নাকি এখনও সময় আছে, বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন আর আশ্বাসে মেটানো যাবে না। প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, দৃশ্যমান পরিবর্তন। কারণ, একটি শহরের উন্নয়ন শুধু প্রকল্পের কাগজে নয়, বাস্তব পরিকাঠামোর মানেই প্রতিফলিত হয়। শিলচরের মানুষ এখন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, তারা আর প্রতিশ্রুতি নয়, কাজ দেখতে চায়। এখনই সময় প্রশাসনের দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দেওয়ার। নাহলে এই নীরব ক্ষোভ যে বড় আন্দোলনের রূপ নেবে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

উদ্বোধনের রং শুকোতেই ভাঙছে ছয় নম্বর জাতীয় সড়ক, পাঁচ মাসেই বেহাল অবস্থা, প্রশ্নের মুখে নির্মাণের গুণগতমান

বরাকবাণী ডিজিটাল শিলচর ১৮ এপ্রিলঃ মাত্র পাঁচ-ছয় মাস আগেই যে ছয় নম্বর জাতীয় সড়ককে ঘিরে ছিল উন্নয়নের ঢাকঢোল, ফিতা কাটা আর বড় বড় আশ্বাস  আজ সেই রাস্তাই যেন এক নির্মম বাস্তবতার…

মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে ভরাডুবি পয়লাপুল নেহেরু স্কুলে, ২০৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৩ জন উত্তীর্ণ

বরাকবাণী ডিজিটাল শিলচর ১৮ এপ্রিলঃ পয়লাপুল এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পিএমশ্রী নেহেরু হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল যে স্কুল একসময় মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্যের শিখরে অবস্থান করত সেই প্রতিষ্ঠানই এবছর নজিরবিহীনভাবে খারাপ ফলাফলের…