বরাকবাণী ডিজিটাল ১৭ এপ্রিলঃ ভারতের সংবাদমাধ্যমের মালিকানায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট করে দিল আদানি গোষ্ঠী। NDTV অধিগ্রহণের পর এবার দেশের অন্যতম পুরনো ও পরিচিত সংবাদ সংস্থা ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস (IANS)-এর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিল গৌতম আদানির মিডিয়া শাখা।
সংবাদ সংস্থার ম্যানেজমেন্ট ও অপারেশন এখন AMNL-এর হাতে
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, আদানি গোষ্ঠীর মালিকানাধীন AMG মিডিয়া নেটওয়ার্ক লিমিটেড (AMNL) IANS-এর ৫০.৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে। ফলে সংস্থাটির কার্যত নিয়ন্ত্রণ এখন AMNL-এর হাতে চলে গেল। ইতিমধ্যেই এই অধিগ্রহণ সংক্রান্ত শেয়ারহোল্ডারদের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
IANS, যা দীর্ঘদিন ধরে হিন্দি ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই সংবাদ পরিষেবার জন্য পরিচিত, এখন থেকে NDTV-এর মতোই AMNL-এর একটি সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এই চুক্তির ফলে সংস্থার নীতি নির্ধারণ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন পরিচালনা সব ক্ষেত্রেই AMNL-এর প্রভাব সুস্পষ্ট হতে চলেছে।
NDTV-র পর আরও এক বড় মিডিয়া অধিগ্রহণ, জোরালো হচ্ছে প্রভাব
সংবাদ সংস্থা PTI-র সূত্রে জানা গিয়েছে, AMNL শুধু শেয়ার অধিগ্রহণেই থেমে থাকছে না; বরং IANS-এর অপারেশনাল ও ম্যানেজমেন্ট কন্ট্রোলও তাদের হাতে থাকবে। এমনকি সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নিয়োগের অধিকারও এখন AMNL-এর কাছে থাকবে। অর্থাৎ, IANS-এর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণে আদানি গোষ্ঠীর ভূমিকা হবে নির্ণায়ক।
এই চুক্তিতে IANS-এর বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অন্যতম সন্দীপ বামজাইয়ের সঙ্গেও সমঝোতা হয়েছে। ফলে পুরনো ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সঙ্গে নতুন কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণের একটি সমন্বিত রূপ সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প মহলের একাংশ।
মিডিয়ায় কর্পোরেট দখল আরও পোক্ত, IANS এখন আদানির ছাতার তলায়
গৌতম আদানির নেতৃত্বে মিডিয়া খাতে এই আগ্রাসী সম্প্রসারণ নতুন নয়। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে সংবাদমাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে আদানি গোষ্ঠী। ২০২২ সালের শেষে NDTV-র প্রায় ৬৫ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে জাতীয় স্তরে আলোড়ন ফেলে দেয় তারা। তার আগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বিকিউ প্রাইম’-এর মূল সংস্থা কুইন্টিলিয়ন বিজনেস মিডিয়াও অধিগ্রহণ করে গোষ্ঠীটি।
NDTV-র ক্ষেত্রে অধিগ্রহণের পর ম্যানেজমেন্ট স্তরে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়। নতুন অ্যাঙ্কর, নতুন কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজি সব মিলিয়ে চ্যানেলের উপস্থাপনায় পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট হয়। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার IANS-এর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হতে পারে বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও IANS একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। ২০২২-২৩ আর্থিক বছরে সংস্থাটির আয় ছিল প্রায় ১১.৮৬ কোটি টাকা। যদিও পরিমাণে এটি বিশাল না হলেও, দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র, ওয়েব পোর্টাল এবং টেলিভিশন চ্যানেলে সংবাদ সরবরাহের ক্ষেত্রে IANS-এর প্রভাব যথেষ্ট বিস্তৃত।
NDTV-র পর ফের বড় চুক্তি, মিডিয়া সেক্টরে প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত
এই নতুন অধিগ্রহণের ফলে ভারতের সংবাদমাধ্যমের মালিকানার কাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তন আসছে বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে যেমন কর্পোরেট বিনিয়োগের ফলে প্রযুক্তি, পরিকাঠামো ও বিস্তারের সুযোগ বাড়তে পারে, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বহুমাত্রিকতার প্রশ্নও নতুন করে সামনে আসছে।
সব মিলিয়ে, IANS-কে নিজের ছাতার নিচে এনে আদানি গোষ্ঠী যে মিডিয়া সেক্টরে দীর্ঘমেয়াদি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই ধারাবাহিক অধিগ্রহণ আগামী দিনে ভারতীয় সংবাদ জগতের রূপরেখা কতটা বদলে দেয়, এখন সেদিকেই নজর শিল্প মহল থেকে সাধারণ পাঠক সবার।


