টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব একটা মসৃণ ছিল না মুম্বইয়ের। তবে ইনিংসের শুরু থেকেই দৃঢ়তা দেখান দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার-ব্যাটার কুইন্টন ডি কক। অন্য প্রান্তে উইকেট পড়লেও নিজের ছন্দ হারাননি তিনি। মাত্র ৫৩ বলেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ডি কক। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ১১২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৭টি বিশাল ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ১৮৬.৬৭ যা যে কোনও বোলিং আক্রমণের জন্য দুঃস্বপ্ন।

নমন ধীর ৫০ রান করে আউট হলেও ডি ককের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই ২০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যায় মুম্বই। নির্ধারিত ২০ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯৫/ একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর বলেই মনে হচ্ছিল।

তবে রান যতই হোক, সেটি রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং। আর সেখানেই সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন মুম্বইয়ের বোলাররা। জসপ্রিত বুমরাহ, শার্দুল ঠাকুর কিংবা দীপক চাহার কেউই নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। লাইন-লেন্থের অভাব, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং ফিল্ডিংয়ের ভুল সব মিলিয়ে ম্যাচ থেকে ক্রমশ ছিটকে যায় মুম্বই।

রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে শুরু করেন প্রভসিমরন সিং। তাঁর ব্যাট থেকে বেরোতে থাকে একের পর এক চমকপ্রদ শট। প্রিয়াংশ আর্য দ্রুত আউট হলেও থামেননি প্রভসিমরন। ৪৫ রানে ২ উইকেট পড়ার পর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন প্রভসিমরন ও অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। দু’জনে মিলে গড়ে তোলেন ১৩৯ রানের বিশাল পার্টনারশিপ, যা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

প্রভসিমরন মাত্র ৩৯ বলে ৮০ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে শ্রেয়স আইয়ার ৩৫ বলে ৬৬ রান করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন। দু’জনের ব্যাটিংয়ে মুম্বই বোলারদের অসহায় দেখায়। শেষ পর্যন্ত ২১ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে পঞ্জাব যা এই ম্যাচে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যেরই প্রমাণ।

এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের মাঝেই আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে, পঞ্জাবের পেসার অর্শদীপ সিংয়ের ব্যক্তিগত জীবন। বলিউড অভিনেত্রী ও মডেল সামরিন কৌরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। যদিও দু’জনেই এখনও প্রকাশ্যে কিছু স্বীকার করেননি, তবুও বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবারের ম্যাচেও গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন সামরিন। টিভি ক্যামেরা বারবার তাঁকে ধরতেই দেখা যায় তাঁর লাজুক হাসি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্টই জানান, “আমি পঞ্জাবকেই সমর্থন করছি।”

এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় অর্শদীপের একটি রহস্যময় পোস্ট থেকেই শুরু হয়েছিল জল্পনা যেখানে দেখা গিয়েছিল তিনি কারও হাত ধরে আছেন। ধীরে ধীরে সেই রহস্য যেন এখন অনেকটাই স্পষ্ট।

এই জয়ের ফলে ৫ ম্যাচে ৪টি জয় ও একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় মোট ৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে পঞ্জাব কিংস। দ্বিতীয় স্থানে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (৮ পয়েন্ট), তৃতীয় রাজস্থান রয়্যালস। মাঝামাঝি জায়গায় রয়েছে হায়দরাবাদ, দিল্লি, গুজরাত, লখনউ ও চেন্নাই। অন্যদিকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ৫ ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে। সবচেয়ে নীচে রয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

ডি ককের দুরন্ত সেঞ্চুরি, প্রভসিমরনের ঝড়ো ব্যাটিং, শ্রেয়সের নেতৃত্ব সব মিলিয়ে এই ম্যাচ ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর। তবে শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হল, ক্রিকেট দলগত খেলা। একার লড়াই যতই উজ্জ্বল হোক, দলগত পারফরম্যান্সের সামনে তা অনেক সময়ই ম্লান হয়ে যায়। আর সেই দলগত শক্তিতেই এবার আইপিএলে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করে চলেছে পঞ্জাব কিংস।