বরাকবাণী ডিজিটাল ১৭ এপ্রিলঃপার্লামেন্টে আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে এক লাফে ৮৫০ রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাঞ্চল্য, বিশেষ অধিবেশনে আজই পেশ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল। আসন পুনর্বিন্যাস, মহিলা সংরক্ষণ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংক্রান্ত সংশোধনী, এই তিনটি বিলকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা জনগণনা প্রক্রিয়া অবশেষে পুনরায় শুরু হতে চলেছে ২০২৭ সালে। সংবিধানের ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জনগণনার তথ্য প্রকাশের পরেই সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু সেই রিপোর্ট প্রকাশের আগেই কেন্দ্রের এই উদ্যোগকে ঘিরে বিরোধীদের তীব্র আপত্তি সামনে এসেছে। তাদের অভিযোগ, “তাড়াহুড়ো করে” গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যার সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।
জনগণনার রিপোর্টের আগেই বড় সাংবিধানিক পরিবর্তনের উদ্যোগে কেন্দ্র
এই প্রেক্ষাপটে আজ থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকার তিনটি বড় বিল পেশ করতে চলেছে। এর মধ্যে অন্যতম ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল, যা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নামে পরিচিত। এই বিলের মাধ্যমে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এই সংরক্ষণ কার্যকর করতে গিয়েই লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব সামনে এসেছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত ৮৫০টি আসনের মধ্যে ৮১৫টি রাজ্যগুলির জন্য এবং ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য নির্ধারণ করা হতে পারে। একইসঙ্গে, প্রতিটি রাজ্যের আসনসংখ্যা এবং মোট আসনের শতকরা অংশ নির্দিষ্ট করে একটি তফশিল আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে আসন সংখ্যা বাড়লেও রাজ্যভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল সংসদে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল এবং আসন পুনর্বিন্যাস বিল পেশ করবেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল উপস্থাপন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিলগুলির খসড়া ইতিমধ্যেই সাংসদদের কাছে পাঠানো হয়েছে, ফলে অধিবেশনে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই প্রস্তাবকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র আকার নিচ্ছে। বিশেষত দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্য ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কম হওয়ায় ভবিষ্যতে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে তাদের প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে। ওড়িশাও এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বিরোধীদের ‘তাড়াহুড়ো’ অভিযোগে সরগরম সংসদ; ৩৩% মহিলা সংরক্ষণ বাস্তবায়নে একাধিক বিল পেশ
সংবিধানের ৮১ নম্বর ধারা অনুযায়ী বর্তমানে লোকসভার সর্বোচ্চ আসন সংখ্যা ৫৫২ হওয়ার কথা, যার মধ্যে ৫৩০টি রাজ্য এবং ২০টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে নির্বাচিত সদস্য। তবে বাস্তবে সেই সীমা অতিক্রম করে ৮৫০ আসনের প্রস্তাব আনা হচ্ছে, যা কার্যকর করতে গেলে সাংবিধানিক সংশোধন অপরিহার্য। সেই কারণেই ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধনের পরিকল্পনাও এই বিলের অন্তর্ভুক্ত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৯ সালে ১০৪তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের জন্য মনোনীত দুই সদস্যের বিধান বাতিল করা হয়েছিল। এবার নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সংসদের কাঠামোতেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, জনগণনার তথ্য প্রকাশের আগেই এই ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। অন্যদিকে, কেন্দ্রের দাবি, মহিলাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং প্রতিনিধিত্ব আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
সব মিলিয়ে, আসন সংখ্যা বৃদ্ধি, মহিলা সংরক্ষণ এবং পুনর্বিন্যাস এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সংসদের বিশেষ অধিবেশন যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন সংসদের দিকে এই বিলগুলি পাস হলে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।


