বরাকবাণী ডিজিটাল শিলচর ১২ এপ্রিলঃ কাছাড় জেলার শিলচর সদর থানার অন্তর্গত মেহেরপুর এলাকার শিবালিক পার্ক সংলগ্ন ভ্যালি হাসপাতালের নিকট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গোপনে চলছিল আইপিএল কেন্দ্রিক জুয়ার আসর এমন অভিযোগ বহুদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। অবশেষে সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হল পুলিশের হানায়। বিশেষ সূত্রে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাছাড় পুলিশ হঠাৎ করেই ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে চারজন জুয়া চক্রের সক্রিয় সদস্য।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন প্রদীপ গোয়ালা, যিনি স্থানীয়ভাবে আইপিএল জুয়ার সর্দার হিসেবে পরিচিত এবং একইসঙ্গে শাসক দলের ১৪৯ নম্বর বুথ কমিটির সভাপতি বলেও জানা গেছে। এছাড়াও ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন মুন্না গোয়ালা, যিনি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারী, হিরালাল দাস এবং জয়ন্ত ভট্টাচার্য। তবে পুলিশের হানার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় চক্রের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ফলে এই চক্রের পূর্ণ বিস্তার ও মূল হোতাদের ধরতে পুলিশের সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
শিবালিক পার্ক সংলগ্ন এলাকায় আইপিএল জুয়ার আসরে হানা, ফাঁস বড় নেটওয়ার্ক
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, বহুদিন ধরেই এই জুয়ার আসর প্রকাশ্যেই চলছিল। সন্ধ্যা নামলেই শুরু হতো লেনদেন, ভিড় জমত বাইরের লোকজনের। অথচ প্রশাসনের নজরে বিষয়টি এতদিন আসেনি কেন, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। এক বাসিন্দার কথায়, প্রায় প্রতিদিনই এখানে সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা ছিল।
আমরা ভয় পেয়ে সরাসরি কিছু বলতে পারিনি। কিন্তু এত বড় চক্র এতদিন ধরে কীভাবে চলল, সেটা ভেবে অবাক লাগছে। ঘটনাটির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, ধৃতদের মধ্যে শাসকদলের এক বুথ সভাপতির নাম জড়িয়ে পড়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি জুয়ার আসর ভাঙার ঘটনা নয়, বরং এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের কিছু অংশের সঙ্গে বেআইনি কার্যকলাপের সম্ভাব্য যোগসূত্র সামনে আসছে।
পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ল প্রভাবশালী চক্র, রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে তোলপাড়
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া না থাকলে এভাবে প্রকাশ্যে আইপিএল জুয়ার আসর চালানো সম্ভব নয়। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
শাসকদলের বুথ সভাপতির নাম জড়ানোয় তীব্র চাঞ্চল্য, রাজনৈতিক যোগে বাড়ছে প্রশ্ন
একইসঙ্গে এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, সম্ভাব্য বড় নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজও শুরু হয়েছে। এই ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে একটি পুরনো প্রশ্ন, আইপিএল চলাকালীন জুয়ার বিস্তার রোধে প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নজরদারি কতটা কার্যকর? প্রতি বছরই আইপিএল মরসুমে এই ধরনের জুয়ার অভিযোগ উঠে আসে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা সাময়িক অভিযানে সীমাবদ্ধ থাকে।
শিলচরের মেহেরপুরে আইপিএল জুয়ার আসরে পুলিশের এই অভিযান নিঃসন্দেহে একটি বড় সাফল্য। তবে একইসঙ্গে এটি প্রকাশ করে দিল একটি গভীর সমস্যা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা এবং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি। শিলচর শহরের বুকে আবারও প্রকাশ্যে উঠে এল আইপিএলকে কেন্দ্র করে বেআইনি জুয়ার রমরমা কারবার।
পুলিশের হানায় ধরা পড়ল চক্রের সক্রিয় সদস্যরা আর সেই তালিকায় শাসকদলের এক বুথ সভাপতির নাম জড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনায় পুলিশ কতটা গভীরে গিয়ে তদন্ত চালায় এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে কতটা সফল হয়।


