শ্রীভুমিতে একে একে প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত জেলা নেতৃত্বের

এই ভিন্নধর্মী উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক সংযম নয়, বরং এক কৌশলগত বার্তা অতিরিক্ত প্রদর্শনের বদলে সংগঠনের ভিত মজবুত করার উপর জোর দিচ্ছে কংগ্রেস। সোমবার শ্রীভুমি জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কার্যালয় চত্বরে দিনভর ছিল রাজনৈতিক কর্মব্যস্ততা। একে একে বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থীরা উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দলীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়, তবে কোথাও ছিল না অযথা ভিড় বা প্রদর্শন যা অন্যান্য দলের কার্যক্রমের তুলনায় স্পষ্টভাবেই আলাদা চিত্র তুলে ধরেছে।

তবে বাস্তবতা হলো, সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন লড়াই। রাজ্য ও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র সংগঠনগত শক্তি এবং প্রশাসনিক প্রভাবকে মোকাবিলা করা কংগ্রেসের জন্য সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  সোমবার দিনভর করিমগঞ্জ জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কার্যালয় কার্যত কংগ্রেসের প্রার্থীদের পদচারণায় সরগরম হয়ে ওঠে। জেলার বিভিন্ন বিধানসভা আসনের প্রার্থীরা একে একে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিল দলীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি, তবে ছিল না অযথা বাহুল্য যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

উত্তর করিমগঞ্জে আত্মবিশ্বাসী জাকারিয়া

রামকৃষ্ণনগরে সুরুচির ভরসা জনসমর্থনে

রামকৃষ্ণনগর আসনের কংগ্রেস প্রার্থী সুরুচি রায় যদিও দুদিন আগেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, তবুও সোমবার তিনি নিজের জয়ের ব্যাপারে প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর কথায়, জনগণের সমর্থনই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই বিশ্বাস নিয়েই নির্বাচনে লড়ছি।”

মনোনয়ন পর্ব শেষে জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জেলার প্রতিটি আসনেই এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তিনি স্বীকার করেন, কেন্দ্র ও রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় থাকায় শাসকদল কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। তবে তাঁর দৃঢ় বক্তব্য, বিজেপির একনায়কতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষই এবার জবাব দেবে।

একই সুর শোনা যায় জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরীর কথাতেও। তিনি দাবি করেন, গৌরব গগৈ এর নেতৃত্বে বরাক উপত্যকা থেকে শুরু করে গোটা অসমেই কংগ্রেসের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সব মিলিয়ে, করিমগঞ্জে কংগ্রেসের মনোনয়ন পর্ব যেন এক নীরব বার্তা দিয়ে গেল, রাজনীতিতে শুধু শোরগোল নয়, সংগঠনের শক্তি, কৌশল এবং জনবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয় জয়-পরাজয়ের সমীকরণ। এখন দেখার, এই সংযত সূচনা ভোটবাক্সে কতটা সফল পরিণতি এনে দিতে পারে।

Related Posts

গেরুয়া ঢেউয়ে ভাসল শ্রীভূমি, একযোগে চার কেন্দ্রের মনোনয়ন দাখিলে বিজেপি-মিত্রজোটের শক্তিপ্রদর্শন

হিল্লোল দত্ত বরাকবাণী ডিজিটাল শ্রীভূমি ২৪ মার্চঃ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শ্রীভূমি জেলায় সোমবার কার্যত শক্তি প্রদর্শনের এক বিশাল রাজনৈতিক মহড়া গড়ে তুলল বিজেপি ও তাদের মিত্রজোট। সকাল থেকে…

নীহার রঞ্জন দাস এর অভিযোগে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, ধলাইয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক মঞ্চ

রাজু দাস বরাকবাণী ডিজিটাল শিলচর ২২ মার্চঃ কাছাড়ের রাজনীতির আকাশে এখন জমাট বাঁধছে অশান্তির কালো মেঘ। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে ধলাই ও উধারবন্দ কেন্দ্রকে ঘিরে যে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা…