শান্তি ও সম্প্রীতির আবহে শিলচরে ঈদুল ফিতর, মেহেরপুর ঈদগাহে জনসমুদ্র

শনিবার ভোর থেকেই শিলচরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মুসল্লি নতুন পোশাক পরে ঈদের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন নিকটবর্তী ঈদগাহগুলোর দিকে। শহরের প্রতিটি ঈদগাহেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও, মেহেরপুর ঈদগাহে ছিল সবচেয়ে বেশি সমাগম। সকাল গড়াতেই বিস্তীর্ণ ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে যেখানে শিশু, কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে প্রবীণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

ঈদের নামাজে ইমামতি করেন বিশিষ্ট আলেম মৌলানা আব্দুল ওয়াহিদ সাহেব। নামাজের পূর্বে তিনি তাঁর বয়ানে ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য, আত্মসংযমের শিক্ষা এবং রমজানের মূল বার্তা নিয়ে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও মানবতার চর্চার এক মহান উপলক্ষ। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার আহ্বান।

নামাজ শেষে দেশ-জাতির কল্যাণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালিত হয়। সেই মুহূর্তে গোটা ঈদগাহ প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, ঈদ মোবারক ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। ঈদের আনন্দ শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ছড়িয়ে পড়ে শহরের প্রতিটি অলিগলি ও জনপদে।

মেহেরপুর ঈদগাহ সংলগ্ন কাঁঠাল পয়েন্ট এলাকায় প্রতি বছরের মতো এবারও বসে অস্থায়ী দোকানপাট। খেলনা, বেলুন, মিষ্টান্ন, ফাস্টফুডসহ নানা সামগ্রীর দোকানে উপচে পড়া ভিড় ছিল শিশু-কিশোরদের। রঙিন বেলুন হাতে, নতুন পোশাকে সেজে ওঠা শিশুদের হাসি যেন উৎসবের আসল রূপকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।

এছাড়াও ডিয়ার বয়েজ ক্লাব এর উদ্যোগে কাঁঠাল পয়েন্ট এলাকাকে ঈদ উপলক্ষে বিশেষভাবে সাজানো হয়। আকর্ষণীয় প্রবেশদ্বার, বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং নান্দনিক সজ্জায় পুরো এলাকা যেন এক উৎসব প্রাঙ্গণে পরিণত হয়। সন্ধ্যা নামতেই আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে চারদিক, যা শহরের মানুষের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়। ফলে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন হয়, যা প্রশাসনের তৎপরতারই প্রমাণ বহন করে। সব মিলিয়ে, এবারের ঈদুল ফিতর শিলচরবাসীর কাছে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এক অনন্য সামাজিক বন্ধন, সম্প্রীতি ও আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ধরা দিল। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে যে মিলনমেলা তৈরি হলো, তা আগামী দিনগুলোর জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে, শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা।

Related Posts

নীহার রঞ্জন দাস এর অভিযোগে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, ধলাইয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক মঞ্চ

রাজু দাস বরাকবাণী ডিজিটাল শিলচর ২২ মার্চঃ কাছাড়ের রাজনীতির আকাশে এখন জমাট বাঁধছে অশান্তির কালো মেঘ। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে ধলাই ও উধারবন্দ কেন্দ্রকে ঘিরে যে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা…

করিমগঞ্জ টাউন ঈদগাহে ঈদের মহাজামাত, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তায় মুখরিত পরিবেশ

বরাকবাণী ডিজিটাল শিলচর ২২ মার্চঃ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা, আত্মসংযম ও ইবাদত-বন্দেগির পর শুক্রবার পালিত হল পবিত্র ঈদুল ফিতর খুশি, আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের মহামিলনের দিন। এই আনন্দঘন মুহূর্তকে কেন্দ্র…