বরাকবাণী ডিজিটাল শিলচর ২২ মার্চঃ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা, আত্মসংযম ও ইবাদত-বন্দেগির পর শুক্রবার পালিত হল পবিত্র ঈদুল ফিতর খুশি, আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের মহামিলনের দিন। এই আনন্দঘন মুহূর্তকে কেন্দ্র করে করিমগঞ্জ জেলার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র করিমগঞ্জ টাউন ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের নামাজ। কয়েক সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে ঈদগাহ প্রাঙ্গণে এবারের ঈদের নামাজ পরিচালনা করেন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও বদরপুর ফুরকান একাডেমির প্রিন্সিপাল এবং বদরপুর আল জামিয়ার মুহাদ্দিস মাওলানা মুফতি মাহবুব আলম বরভুঁইয়া।
শণিবার টাউন ঈদগাহে ঈদের অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে। প্রথমে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে থাকছে কোরআন পাঠ, ক্বিরাত, গজল পরিবেশন। এরপর প্রধান অতিথি বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। এবং সংক্ষিপ্ত ভাবে ঈদগাহ পরিচালন সমিতির সদস্যদের বক্তব্য রাখবেন। ঠিক নয়টায় নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজ পাঠে মুফতি মাহবুব আলম বরভুঁইয়া মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে সৌহার্দ্য ও ভাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। বলেন ইসলাম মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলন, সমাজে শান্তি স্থাপন এবং সর্বোপরী দেশের মঙ্গলের বার্তা দেয়। সমাজে বিরাজমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও বিভাজনের প্রেক্ষাপটে তাঁর বক্তব্য মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা করে।
হাজারো মুসল্লির উপস্থিতিতে নামাজ আদায়, মুফতি মাহবুব আলম বরভুঁইয়ার ঐক্য ও মানবিকতার আহ্বান, প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণ উদযাপন
এদিকে ঈদের দিন ভোর থেকেই করিমগঞ্জ শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, গ্রামাঞ্চল এবং দূরদূরান্ত থেকে মুসল্লিরা দলে দলে ঈদগাহ মাঠে উপস্থিত হন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে আগেভাগেই ঈদগাহে পৌঁছে যান, যাতে নির্বিঘ্নে জামাতে শরিক হতে পারেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা মানুষের ঢলে মুখরিত হয়ে উঠে এবং একসাথে হাজারো কণ্ঠে উচ্চারিত তাকবির ধ্বনি সৃষ্টি করে এক অনন্য পবিত্র পরিবেশ। ঈদগাহ চারপাশে এক ভিন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।একে অপরকে আলিঙ্গন করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
টাউন ঈদগাহ প্রাঙ্গণে ঈদের বৃহৎ জামাতকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়। ঈদগাহ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হয় বিশেষ পরিকল্পনা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং ব্যবস্থা এবং চলাচলের সুষ্ঠু দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করেন পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা।
অন্যদিকে ঈদগাহ পরিচালন কমিটির সম্পাদক হবিবুর রহমান চৌধুরী,দেওয়ান আব্দুল হেকিম চৌধুরী, পুরসভার স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার এর প্রতিনিধি টিপু সুলতান চৌধুরী ও আবিদুর নূর চৌধুরী (সানি),আশরাফূন নূর চৌধুরী বলেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তরফে নির্বিঘ্নে ঈদ উৎসব পালনে গৃহীত পদক্ষেপ ছিল প্রশংসনীয়।


