বরাকবাণী ডিজিটাল ২২ মার্চঃ হাইলাকান্দি জেলাজুড়ে চলমান রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড়সড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে। শহর থেকে গ্রাম প্রায় সর্বত্রই এলপিজি সিলিন্ডারের অপ্রতুলতা, দেরিতে সরবরাহ, এমনকি অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসনের তরফে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে?
জেলা প্রশাসনের জারি করা নির্দেশে জানানো হয়েছে, গ্যাস সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যা, অভিযোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সরাসরি জেলা জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। এজন্য ৭৬৩৫৯৩৭১৯৪ এবং ৭০০২৩৫৭৭৪৭ নম্বর দুটি চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই নম্বরগুলিতে অভিযোগ জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়াও প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহে অনিয়ম, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, কালোবাজারি বা গ্রাহক হয়রানির মতো যে কোনও ঘটনা সামনে এলে সাধারণ মানুষ যেন নির্দ্বিধায় এই হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করেন। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থা, গ্যাস এজেন্সি এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জনসাধারণের সমস্যার সমাধানে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। তবে এখানেই প্রশ্ন উঠছে, এই সংকটের মূল কারণ কী?
শুধুই কি সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য? দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছে, কিছু গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে এবং কালোবাজারির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বুকিং করার পরও সপ্তাহের পর সপ্তাহ সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে হেল্পলাইন চালু করা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এটি মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। কারণ, অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকলেও যদি সরবরাহ ব্যবস্থার ভিত শক্তিশালী না হয়, তবে সংকট কাটবে না। বরং প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, স্বচ্ছ বণ্টন ব্যবস্থা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ।
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সংকট যখন চরমে, তখন হেল্পলাইন নয়, দরকার ছিল সরাসরি সরবরাহ নিশ্চিত করা। আবার অনেকের আশঙ্কা, অভিযোগ জানালেও বাস্তবে কত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েই রয়েছে সংশয়। জেলা আয়ুক্তের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
কিন্তু বাস্তব চিত্র কতটা বদলায়, সেটাই এখন দেখার। কারণ, গ্যাসের মতো একটি অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংকট শুধু জনজীবনকেই বিপর্যস্ত করে না, বরং প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দেয়। সব মিলিয়ে বলা যায়, হাইলাকান্দির গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের এই হেল্পলাইন উদ্যোগ একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। এখন প্রয়োজন সমস্যার শিকড়ে পৌঁছে তার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা, নইলে এই সংকট আবারও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, আর সাধারণ মানুষকেই তার খেসারত দিতে হবে।


