বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ মেঃ হাইলাকান্দি জেলায় ফের বড়সড় মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করল জেলা পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের এই সফল অভিযানের পর জেলাজুড়ে সক্রিয় মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সমীর দপ্তর বরুয়ার নেতৃত্বে ডিএসপি বিদ্যুৎ কুমার শইকিয়া, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পল লালহ্লিমসাঙ সহ হাইলাকান্দি থানার একটি বিশেষ দল গাংপার ধুমকর দ্বিতীয় খণ্ড এলাকায় অভিযান চালায়। দীর্ঘ সময় ধরে গোপনে নজরদারি চালানোর পর সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৫০টি হেরোইন ভর্তি ভায়াল।
আটক ব্যক্তির পরিচয় বাহাদুরপুর দ্বিতীয় খণ্ড গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন মজুমদার (৪২) হিসেবে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া হেরোইনের মোট ওজন প্রায় ২৬.১৬ গ্রাম বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মাদকের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারী সংস্থার। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, উদ্ধার হওয়া হেরোইন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
এই ঘটনার সঙ্গে আরও বড় কোনও আন্তঃজেলা বা আন্তঃরাজ্য মাদকচক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
বর্তমান সময়ে মাদক শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেওয়ার এক নীরব মহামারিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলিকে ব্যবহার করে একদল অসাধু পাচারকারী রাতের অন্ধকারে যুবসমাজের হাতে তুলে দিচ্ছে মৃত্যুর বিষ। অর্থলোভে অন্ধ এই মাদক কারবারিদের কাছে মানুষের জীবন, পরিবার কিংবা সমাজের ভবিষ্যতের কোনও মূল্য নেই।
একদিকে যখন অভিভাবকরা সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন, তখন অন্যদিকে মাদকচক্র সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণদের টার্গেট করে খুব সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে এই অবৈধ ব্যবসা। মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ে বহু যুবক নিজেদের জীবন ধ্বংস করছে, বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক অশান্তি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। কারণ মাদক একবার কোনও পরিবারে ঢুকে পড়লে তা ধীরে ধীরে পুরো পরিবারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
গত কয়েক মাস ধরে হাইলাকান্দি জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক মাদক উদ্ধার এবং পাচারকারীদের গ্রেফতারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পুলিশের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুল পরিমাণ মাদক জেলার ভেতরে পৌঁছাল কীভাবে? কারা এই চক্রের মূল সর্দার? সীমান্ত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে কি আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন পুলিশের তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর জেলার মানুষের।






