বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ মেঃ বরাক উপত্যকায় অবৈধ গরু পাচারের অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় সড়ক ও গ্রামীণ সংযোগপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে কিংবা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গবাদি পশু পাচারের অভিযোগ উঠেছে। মাঝে মধ্যেই পুলিশ বা অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার অভিযানে গরু বোঝাই যানবাহন আটক হলেও, প্রশ্ন উঠছে, এই চক্রের মূল হোতারা কি আদৌ আইনের আওতায় আসছে? নাকি ধরা পড়ছে শুধু চালক ও ছোটখাটো বাহকরা?
বড়খলার সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই প্রশ্নকেই আবার সামনে এনে দিল। অবৈধভাবে গরু পাচারের অভিযোগে এবার বড়খলা পুলিশের জালে আটক হল এক লরি চালক। পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫টি গরু এবং বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি লরি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড়খলা ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই রুটকে ব্যবহার করে গোপনে গরু পাচার চলছিল। কিন্তু প্রশাসনের কড়া নজরদারির অভাবেই চক্রটি আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ উঠছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালায় বড়খলা পুলিশ। থানার ওসি কুলেন্দ্র কুমার হুজুরির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বড়খলার বালাছড়া এলাকা থেকে AS–01–NC–9425 নম্বরের একটি সন্দেহভাজন লরি আটক করা হয়। পরে লরিটিতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ১৫টি গরু। অভিযোগ, বৈধ নথিপত্র ছাড়াই গবাদি পশুগুলি অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

অভিযানের পরপরই লরির চালক মইন উদ্দিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। ধৃত যুবকের বাড়ি মরিগাঁও জেলায় বলে জানা গেছে। শনিবার তাকে শিলচর আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, শুধু চালক গ্রেফতার করলেই কি পাচারচক্রের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব?
স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাক উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা এখন গরু পাচারের করিডরে পরিণত হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই গভীর রাতে গরু বোঝাই ট্রাক ও লরি চলাচল করতে দেখা যায়। অথচ প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে এত বড় কর্মকাণ্ড চললেও, অধিকাংশ সময়েই মূল পাচারকারীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে, এই অবৈধ ব্যবসার পিছনে কি কোনো প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে?
এলাকাবাসীর একাংশের মতে, শুধুমাত্র মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি গরু উদ্ধার বা একজন চালককে গ্রেফতার করলেই দায় শেষ হয় না। প্রয়োজন গোটা নেটওয়ার্কের সন্ধান বের করা। কোথা থেকে গরুগুলি আনা হচ্ছিল, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, কারা এর সঙ্গে জড়িত, কোন কোন রুট ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি। না হলে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
অন্যদিকে, পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা হচ্ছে কি না, গবাদি পশুর প্রতি অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। উদ্ধার হওয়া গরুগুলিকে বর্তমানে বড়খলা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
তবে এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, বরাক উপত্যকায় অবৈধ পাচারচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি। শুধু নিচুতলার বাহকদের নয়, মূল মাস্টারমাইন্ডদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে এ ধরনের অপরাধ কোনোদিনই পুরোপুরি বন্ধ হবে না বলেই মত অভিজ্ঞ মহলের।





