প্রাইভেট গাড়িতে অবৈধ যাত্রী পরিবহনে ক্ষুব্ধ চালকরা, ব্যবস্থা না নিলে শ্রীভূমি-হাইলাকান্দি জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ফলে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী পারমিটধারী চালকদের অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে পড়েছে। প্রতিবাদী চালকদের মধ্যে সাব উদ্দিন, সাহাদত আলী ওরফে পাগলা, কালা নেজাম, ধলা নেজাম, আমিনুল ইসলামসহ একাধিক প্রতিনিধি বলেন, ওয়াগনার, অল্টো, এক্সপ্রেসও, বলেরো ইকোসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়িতে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। অথচ এই গাড়িগুলোর অধিকাংশেরই বাণিজ্যিক পারমিট নেই বলে অভিযোগ। তারা দাবি করেন, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে এই কার্যকলাপ চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং প্রশাসনের নজরদারি কার্যত অদৃশ্য।

চালকদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা সরকারি নিয়মকানুন মেনে গাড়ির বাণিজ্যিক পারমিট সংগ্রহ করেছেন, নিয়মিত কর পরিশোধ করছেন, বীমা নবায়ন করছেন এবং অন্যান্য আইনি বাধ্যবাধকতাও পালন করছেন। এসব খাতে প্রতি মাসে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। কিন্তু অন্যদিকে কিছু প্রাইভেট গাড়ি মালিক কোনও বাণিজ্যিক দায়বদ্ধতা ছাড়াই যাত্রী পরিবহন করে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ পরিবহন ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন।

প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেন, আগে যেখানে একটি বাণিজ্যিক গাড়ি দিনে একাধিক ট্রিপে পর্যাপ্ত যাত্রী পেত, বর্তমানে সেই পরিস্থিতি আর নেই। যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় অনেক চালক দৈনিক খরচই তুলতে পারছেন না। ব্যাংক ঋণের কিস্তি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, জ্বালানি খরচ এবং পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকের মতে, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে পরিবহন ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনরত চালকদের অভিযোগ, প্রশাসনের সামনে বারবার বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনও অভিযান দেখা যায়নি। তাদের দাবি, মাঝে মধ্যে কিছু আনুষ্ঠানিক তৎপরতা দেখা গেলেও তা স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারেনি। ফলে অবৈধ যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চালকদের প্রশ্ন, যদি বৈধ ব্যবসায়ীদের উপর নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে একই নিয়ম অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহনকারীদের ক্ষেত্রে কেন কার্যকর হচ্ছে না?

চালক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র কয়েকজন গাড়ি মালিকের আর্থিক ক্ষতির প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শতাধিক পরিবারের জীবন-জীবিকা। একজন গাড়িচালকের আয়ের উপর নির্ভর করে পরিবারের সদস্যদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। আয় কমে যাওয়ায় বহু পরিবার ইতিমধ্যে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে তারা দাবি করেন।

প্রতিবাদকারীদের আরও বক্তব্য, অবৈধ যাত্রী পরিবহন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়, এটি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও উদ্বেগের বিষয়। বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে যাত্রী নিরাপত্তা, বীমা এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ থাকলেও ব্যক্তিগত গাড়িতে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। সমাবেশে বক্তারা প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবৈধ যাত্রী পরিবহন বন্ধে অবিলম্বে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। প্রাইভেট গাড়িতে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে এই প্রবণতা বন্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।

তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা বর্তমানে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পন্থাতেই নিজেদের দাবি তুলে ধরছেন। প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে নয়, বরং আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চান তারা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেও যদি কোনও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চালক নেতারা।

পরিবহন মহলের একাংশের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কারণ, বৈধ ও অবৈধ পরিবহন ব্যবস্থার এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তা শুধু চালকদের জীবিকাকেই নয়, সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থাকেও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, চালকদের দীর্ঘদিনের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন কতটা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Related Posts

ভোট শেষ, সুবিধাও শেষ! নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি উধাও, বন্ধ ১০০ টাকার ডাল-চিনি-লবণ প্রকল্প

রেশন কার্ডধারীদের কপালে বাড়তি খরচের বোঝা, বাজেট সংকটের অজুহাতে অনিশ্চয়তায় লক্ষ লক্ষ পরিবার নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতির ঝড়, ভোটের পর বাস্তবতার কঠিন ধাক্কা। অসমের প্রায় ৭০ লক্ষ রেশন কার্ডধারী পরিবারকে স্বস্তি…

ডবল ইঞ্জিন সরকারের জিরো টলারেন্স কি ফাইলবন্দি? ১৫ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকার সংস্কার কোথায়? মরণফাঁদে পরিণত ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক, ক্ষোভে ফুঁসছে বরাক ও তিন রাজ্যের মানুষ

ভাঙাচোরা সড়কে নিত্য দুর্ভোগে রোগী, ছাত্রছাত্রী, যাত্রী ও তিন রাজ্যের পণ্যবাহী যানচালকরা, উঠছে দুর্নীতি তদন্তের দাবি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলচর ২মেঃ ডবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়নের অঙ্গীকার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *