টানা বর্ষণে জলমগ্ন উধারবন্দ, বাড়ছে মধুরা নদীর জলস্তর, বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত নদীপাড়ের মানুষ

এদিকে, অব্যাহত বর্ষণের জেরে দ্রুত বাড়ছে মধুরা নদীর জলস্তর। নদীর জল বিপদসীমার দিকে এগোতে শুরু করায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায়। গত বছরের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনও তাজা থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনিক মহলেও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোররাত থেকেই আকাশ কালো করে শুরু হয় প্রবল বর্ষণ। প্রথমদিকে সাধারণ বৃষ্টি মনে হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা রীতিমতো দুর্যোগের চেহারা নেয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা অবিরাম বর্ষণে অল্প সময়ের মধ্যেই উধারবন্দের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জল জমতে শুরু করে।

সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়েছেন জেসি গার্লস হাইস্কুল রোড, কালীবাড়ি রোড, শায়বাগ, ঘোড়ালি সহ একাধিক এলাকার বাসিন্দারা। অনেক জায়গায় হাঁটু সমান জল জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। ছোট যানবাহন, রিকশা ও দুচাকা গাড়ির চলাচলেও দেখা দেয় চরম দুর্ভোগ। বেশ কিছু এলাকায় যানবাহন বিকল হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

সকালে স্কুলমুখী ছাত্রছাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে দেখা যায়। অনেকে জুতো হাতে নিয়ে জল ডিঙিয়ে স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করে। বহু অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাননি। অফিসযাত্রীদেরও দীর্ঘক্ষণ জলবন্দি অবস্থায় থাকতে হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সকাল থেকেই বাজার এলাকায় জল জমে থাকায় ক্রেতাদের আনাগোনা কমে যায়, ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে ছোট ব্যবসায়ীদের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে উধারবন্দের বিস্তীর্ণ এলাকা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

তাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নিকাশি ব্যবস্থা, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না হওয়া এবং বিভিন্ন জায়গায় নালা-নর্দমা দখল হয়ে যাওয়ার ফলেই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিচ্ছে। অনেক এলাকায় ড্রেন উপচে রাস্তায় নোংরা জল উঠে আসায় জনস্বাস্থ্যের দিক থেকেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রতি বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই বাড়ির সামনে জল জমে যায়।

এবার তো উঠান পেরিয়ে ঘরের ভেতরেও জল ঢুকতে শুরু করেছে। প্রশাসনের কাছে বহুবার অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। অন্যদিকে, অবিরাম বর্ষণের জেরে দ্রুত ফুলেফেঁপে উঠছে মধুরা নদী। নদীর জলস্তর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় আগে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখছেন।

স্থানীয়দের দাবি, গত বছরের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল বহু পরিবারকে। সেই অভিজ্ঞতা এখনও ভুলতে পারেননি মানুষ। তাই এবারও টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

এদিকে প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও নদীতীরবর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারি না বাড়ালে বড়সড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, টানা বর্ষণে আপাতত চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে উধারবন্দবাসীর। একদিকে জলমগ্ন জনজীবন, অন্যদিকে ক্রমশ বাড়তে থাকা মধুরা নদীর জলস্তর দুইয়ের চাপে কার্যত দিশেহারা সাধারণ মানুষ। এখন পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং প্রশাসন কতটা কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র উধারবন্দ।

Related Posts

অবিরাম বর্ষণে পাঁচগ্রাম মিরাপিং মোকামের সড়কে ধস, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, ব্যাহত যান চলাচল

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৬ মেঃ টানা কয়েক ঘণ্টার অবিরাম বর্ষণে ফের বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাঁচগ্রাম এলাকার জনজীবন। ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে এবার ধস নামল পাঁচগ্রামের মিরাপিং মোকাম সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। হঠাৎ…

পাথারকান্দি মডেল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে পড়ুয়াদের হাতে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ করলেন বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৬ মেঃ তৃতীয়বারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নিজের বিধানসভা এলাকার শিক্ষা, পরিকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছেন পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল। সেই ধারাবাহিকতায়…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *