বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৬ মেঃ টানা কয়েক ঘণ্টার অবিরাম বর্ষণে ফের বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাঁচগ্রাম এলাকার জনজীবন। ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে এবার ধস নামল পাঁচগ্রামের মিরাপিং মোকাম সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। হঠাৎ করেই সড়কের একাংশ ভেঙে ধসে পড়ায় এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ধসের ফলে রাস্তাটির একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে ছোট গাড়ি, অটোরিকশা ও পণ্যবাহী যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হওয়ায় যে কোনও মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ও ঢালু এলাকার মাটি ক্রমশ আলগা ও নরম হয়ে পড়ে। শুক্রবার ভোরের দিকে আচমকাই রাস্তার একাংশ ধসে যায়।
সকাল হতেই বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। কেউ কেউ নিজের মোবাইলে ধসের দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধস নামার সময় বিকট শব্দ শোনা যায়। রাস্তার একাংশ নিচের দিকে বসে যাওয়ায় সেখানে বড় বড় ফাটলও দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির পানি অবিরামভাবে ধসের অংশ দিয়ে নিচে নামতে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে। অনেক চালক বাধ্য হয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করছেন।
তবে বিকল্প পথগুলির অবস্থাও বেহাল হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনের আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। প্রাথমিকভাবে বিপজ্জনক অংশে বাঁশ ও সতর্কীকরণ চিহ্ন বসানো হয়েছে যাতে রাতের অন্ধকারে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে। পাশাপাশি ধস সরিয়ে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজও শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। যদিও অবিরাম বৃষ্টির কারণে মেরামতির কাজে বারবার বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই মিরাপিং মোকাম সংলগ্ন এই এলাকায় ধসের আশঙ্কা দেখা দেয়। বহুবার প্রশাসনের কাছে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের বক্তব্য, অস্থায়ীভাবে মাটি ফেলে বা নামমাত্র সংস্কার করায় সমস্যা কিছুদিনের জন্য কমলেও বর্ষা নামলেই ফের একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও চরম সমস্যায় পড়েছেন। এলাকার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আনা-নেওয়ায় বিঘ্ন ঘটছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ও চাকুরিজীবীদেরও যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি পরিষেবার যানবাহন চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়ার উন্নতি ঘটলে দ্রুত স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রতি বছর একই ধরনের বিপর্যয় ঘটার পরও কেন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে না?
অবিরাম বর্ষণে যখন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই পাঁচগ্রামের মিরাপিং মোকাম সংলগ্ন সড়ক ধসের এই ঘটনা ফের তুলে ধরল এলাকার দুর্বল অবকাঠামো ও অপরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণের বাস্তব চিত্র। এখন প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।





