অবৈধভাবে প্রবেশ : বাংলাদেশি নাগরিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অসম ছাড়ার নির্দেশ

নির্দেশ অনুযায়ী, ২৪ বছর বয়সি মহম্মদ মাসুদ ওরফে মিস্টারকে দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর-ধুবড়ি রুট দিয়ে অসমের বাইরে যেতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনসম্মতভাবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। নির্দেশ অমান্য করলে ১৯৫০ সালের অসম থেকে অভিবাসী বহিষ্কার আইনসহ অন্যান্য প্রযোজ্য আইনে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানার অন্তর্গত রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা মাসুদকে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি জর্ডাঙা সীমান্ত চৌকি এলাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা আটক করেন। অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সীমান্তের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করে তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তাঁকে মানকাচর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় মানকাচর থানায় ৭/২০২৬ নম্বর মামলা এবং পিআরসি ৫৩/২০২৬ নম্বর মামলা রুজু হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩২৪(৩) ধারা, ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিক আইন-এর ২১ নম্বর ধারা এবং ১৯৮৪ সালের সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন প্রতিরোধ আইনের ৩(১) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

দক্ষিণ সালমারা-মানকাচরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট গত ২১ জুলাই মাসুদকে তিনটি ধারায় যথাক্রমে এক মাস, সাত মাস এবং তিন মাসের সাধারণ কারাদণ্ড দেন। তবে তিনটি সাজাই একই সঙ্গে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারাধীন অবস্থায় ইতিমধ্যে যে সময় তিনি হেফাজতে ছিলেন, তা সাজা ভোগের সময়ের সঙ্গে গণনা করা হয়। তাঁর কারাদণ্ডের মেয়াদ গত ১২ আগস্ট শেষ হয়েছে।

সাজা শেষ হওয়ার পর মাসুদকে ধুবড়ি জেলা কারাগার থেকে গোলপাড়ার মাতিয়া হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। দক্ষিণ সালমারা-মানকাচরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে আইনসম্মতভাবে দেশ থেকে বহিষ্কারের জন্য জেলাশাসকের কাছে নির্দেশ জারির আবেদন করা হয়।

জেলাশাসকের নির্দেশে দক্ষিণ সালমারা-মানকাচরের পুলিশ সুপারকে বিদেশি নাগরিক শনাক্তকরণ পোর্টালে মাসুদের জৈবিক ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত করার পাশাপাশি তাঁর অসম ত্যাগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গোলপাড়ার পুলিশ সুপারকেও তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, মাসুদের নামে কোনও আধার কার্ড, ভোটার তালিকায় নাম অথবা রেশন কার্ড থাকলে সেগুলির বিষয়েও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁর নামে কোনও অস্থাবর বা স্থাবর সম্পত্তি থাকলে তা নিয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলাশাসকের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মাসুদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। অনুমতি ছাড়া ভারতে প্রবেশ এবং সীমান্ত বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের কারণে অসমে তাঁর অব্যাহত উপস্থিতি জনস্বার্থ ও রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পক্ষে ক্ষতিকর বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।

অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অসম সরকারের জোরদার অভিযানের মধ্যেই এই বহিষ্কারাদেশ জারি হলো। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা চলতি বছরের জুলাই মাসে বিধানসভায় জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ১,৬০০-র বেশি ব্যক্তিকে অসম থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তাঁদের কেউ ‘ফেরত পাঠানো’, কেউ ‘বহিষ্কার’এবং কেউ ‘দেশ থেকে বিতাড়ন’এর আওতায় পড়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, কোনও শনাক্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে গৌহাটি হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন বিচারাধীন থাকলে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয় না।

Related Posts

শিলচর পুরনিগম নির্বাচন: ডিগ্রিতে জালিয়াতি করলেই কপালে শনি, জাল সার্টিফিকেট জমা দিলেই শ্রীঘরে যাওয়ার রাস্তা পাকা!

ভুঁইফোড় বোর্ডের সার্টিফিকেট দিয়ে আর পার পাওয়া যাবে না, মেধা ও সততার অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হচ্ছে প্রার্থীদের, শিলচর পুরনিগম নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার…

শিলচরে ব্যবসার নামে লোভনীয় লভ্যাংশের ফাঁদ পেতে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শিলচরের বেরেঙ্গার সাদ্দামের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

গ্রেপ্তারির পর জামিনে বেরিয়ে সামাজিক বিচারসভার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ; ২৫ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই উধাও প্রতারক। বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলচরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *