জনগণনায় শিক্ষক নিয়োগে স্তব্ধ পঠন-পাঠন!

সোমবার থেকে সারা রাজ্যে ২০২৬-২৭ সালের জনগণনার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে নিযুক্ত গণনাকারীরা নিজেদের নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ায় শ্রীভূমি জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অধিক সংখ্যক ছাত্রছাত্রী থাকা বিদ্যালয়গুলিতে একসঙ্গে একাধিক শিক্ষক জনগণনার কাজে নিযুক্ত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে শিক্ষক সংগঠনগুলির অভিযোগ।

শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের নির্ধারিত দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে জনগণনার কাজে যোগ দিতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। কারণ, জনগণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদ্যালয় অনেক ক্ষেত্রেই শহর বা নির্দিষ্ট গণনাকেন্দ্র থেকে যথেষ্ট দূরে। ফলে বিদ্যালয়ের কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ে গণনার কাজে পৌঁছনো তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমস্যা আরও প্রকট প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলিতে। বহু শিক্ষককে প্রতিদিন ভোর ছয়টা নাগাদ বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দিতে হয়। বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন শেষে আবার জনগণনার কাজে যোগ দিতে গিয়ে তাঁদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এর ফলে সময়ের চাপের পাশাপাশি শারীরিক ক্লান্তিও বাড়ছে। শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে একদিকে যেমন শিক্ষকদের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়বে, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের সমস্যার কথা তুলে ধরে সোমবার শ্রীভূমির জেলা আয়ুক্ত প্রদীপ কুমার দ্বিবেদীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। অধিবিদ্যা পরিষদের অসিত বরণ পাল, অসম মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মচারী সংস্থার জেলা সম্পাদক অনুপম দাস এবং অসম হাইস্কুল শিক্ষক সংস্থার জেলা সম্পাদক বিপ্লব পাল যৌথভাবে এই স্মারকলিপি দেন।

প্রতিনিধিদল স্পষ্ট জানায়, জনগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচিতে শিক্ষকরা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু তার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন স্বাভাবিক রাখাও প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই এমন একটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়, যাতে শিক্ষকরা যথাযথভাবে জনগণনার দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলিতেও নিয়মিত ক্লাস চালু রাখা সম্ভব হয়।

স্মারকলিপি প্রদান ছাড়াও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আলোচনায় শিক্ষকদের কর্মস্থলের সঙ্গে গণনাকেন্দ্রের দূরত্ব, বিদ্যালয়ে শিক্ষক-স্বল্পতা, দায়িত্ব পালনের সময়সূচি এবং প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষকদের যাতায়াতজনিত সমস্যার বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, বিদ্যালয়গুলিতে পঠন-পাঠন স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনগণনার কাজে নিযুক্ত শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে ওডি (অন ডিউটি) দেওয়ার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করার বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়।

শিক্ষক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জেলার শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত সপ্ততী এন্দো, জনগণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত, শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক এবং সার্কেল অফিসারদেরও বিষয়টি অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, জাতীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তবে জনগণনার দায়িত্ব পালনের কারণে যেন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের মতে, শিক্ষক-স্বল্পতা মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে একদিকে জনগণনার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে, অন্যদিকে বিদ্যালয়গুলির শিক্ষাব্যবস্থাও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

Related Posts

দুই বছরের নীরবতার পর পিএম কেয়ার্সের হিসাব প্রকাশ, ৮,৪৫২ কোটি টাকা তহবিলে পড়ে রয়েছে

এক বছরে খরচ মাত্র ৮৭ লক্ষ, অনুদান ও সুদে আয় ১,২০০ কোটির বেশি, স্বচ্ছতা নিয়ে সোচ্চার বিরোধীরা বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৯ আগষ্টঃ দুই বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে পিএম কেয়ার্স…

জনগণনার আগেই এনআরসি-র দাবিতে উত্তাল মণিপুর, দু’দিনের ধর্মঘটে ছাত্র সংগঠন

অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত জনগণনা বন্ধের দাবি, ১৯৫১-কে ভিত্তিবর্ষ করার প্রস্তাব, বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৯ আগষ্টঃ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে হিংসা ও অস্থিরতার…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *