কালাইন বাজারের ৬ নং জাতীয় সড়ক মরনফাঁদে পরিণত!

বিশেষ করে বাইক ও স্কুটি চালকদের জন্য এই রাস্তা এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকাবাসীর মতে, প্রতি বছর রাস্তা সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ এলেও বাস্তবে কাজের মান খুবই খারাপ। কিছুদিন কাজ চলার পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় রাস্তা। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যার কারণেও সামান্য বৃষ্টিতে বাজার এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে।

রাস্তার বুকে এখন অসংখ্য বড় বড় গর্ত। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে ধারালো পাথর, কোথাও আবার হাঁটুসমান কাদা জমে তৈরি হয়েছে মৃত্যুফাঁদ। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পরিণত হচ্ছে ছোট ছোট জলাশয়ে। কোনটা গর্ত আর কোনটা রাস্তা  তা বোঝাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাইক ও স্কুটি আরোহীদের কাছে এই রাস্তা এখন আতঙ্কের আরেক নাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছরই রাস্তা সংস্কারের নামে সরকারি বরাদ্দ আসে। কিন্তু বাস্তবে যা হয়, তা যেন এক পুরনো চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি। কয়েকদিন সামান্য মেরামতির কাজ হয়, কিছু পাথর ফেলে বা অল্প পিচ ঢেলে ছবি তোলা হয়, তারপর কাজ বন্ধ। কিছুদিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় রাস্তা। অথচ ঠিকাদারদের বিল ঠিকই পাস হয়ে যায়। এতে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র সন্দেহ। সাধারণ মানুষের সরাসরি প্রশ্ন, কাজের মান যাচাই না করেই কীভাবে বিল পাস হয়?

রাস্তার পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থা যেন আরও ভয়ঙ্কর। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাজার এলাকায় পূর্বে নির্মিত বহু ড্রেন সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিকভাবে তৈরি করা হয়েছে। কোথা থেকে ড্রেন শুরু হবে, কোথায় গিয়ে শেষ হবে, কীভাবে জল নিষ্কাশন হবে, এই মৌলিক বিষয়গুলির প্রতিই নাকি কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বহু জায়গায় দেখা গেছে, ড্রেন মাঝপথে শুরু হয়ে আবার মাঝপথেই শেষ হয়ে গেছে। কোথাও কোনো নির্দিষ্ট আউটলেট নেই, কোথাও জল গিয়ে আটকে পড়ছে।

আরও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে আরসিসি ড্রেন সংস্কার কাজকে ঘিরে। জানা গেছে, সংস্কারের জন্য বরাদ্দ অর্থের কাজ শুরু হলেও মাত্র এক-দুদিন কয়েকজন শ্রমিক কাজ করার পর হঠাৎ করেই সব বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে আর কোনো কাজ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কাজের সঙ্গে বাজার এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর নামও জড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সরকারি প্রকল্পে একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর ভূমিকা কী? তিনি কি ঠিকাদার? নাকি অন্য কোনোভাবে কাজের উপর প্রভাব খাটানো হয়েছে?

ঘোষণার পর সাময়িক আশার সঞ্চার হলেও সাধারণ মানুষের একাংশ বলছেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তব কাজ দেখতে চান তাঁরা। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা তাঁদের আশাবাদী হতে দিচ্ছে না। বহু প্রতিশ্রুতি এসেছে, কিন্তু বাস্তবের মাটিতে তার প্রতিফলন খুব কমই দেখা গেছে।

আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, এই বেহাল রাস্তার কারণে যদি আগামী দিনে কোনো প্রাণহানি ঘটে, তাহলে তার দায় কে নেবে? সেটিকে কি শুধুই দুর্ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়া হবে? নাকি দীর্ঘদিনের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং নিম্নমানের কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক গাফিলতির অভিযোগ উঠবে? কালাইনবাসীর দাবি এখন স্পষ্ট ও জোরালো। অবিলম্বে পুরো রাস্তার বৈজ্ঞানিক সংস্কার করতে হবে। পরিকল্পিত ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অতীতে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণে যে বরাদ্দ অর্থ খরচ হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

Related Posts

কাটিগড়ায় বরাকের তাণ্ডবে গৃহহীন বহু পরিবার

মাদারপুরে নদীগর্ভে তলিয়ে গেল ১০টি পরিবারের ভিটেমাটি, বাড়িঘর হারিয়ে আশ্রয় শিবিরে, আতঙ্কে নির্ঘুম গোটা এলাকা বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ মেঃ কাটিগড়ার মাদারপুরে আবারও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে বরাক নদী। গোবিন্দপুরের…

বরাকের করাল গ্রাসে ঐতিহ্যবাহী কাটিগড়ার কপিলাশ্রম

নদীভাঙনে তলিয়ে গেল মন্দির প্রাঙ্গণের দুইশ মিটার অংশ, স্থায়ী সমাধানের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে সরব কমিটি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ মেঃ বরাক নদীর ভয়াবহ ভাঙন যেন ক্রমশ গিলে খাচ্ছে একের…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *