বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৫ মেঃ একটি মারপিটের ঘটনার মাত্র তিনদিনের মাথায় এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উধারবন্দ থানার অন্তর্গত দূর্গানগর খণ্ড লক্ষীরবন্দ এলাকায়। মৃত ব্যক্তির নাম একলাছ উদ্দিন লস্কর (৪১)। তিনি প্রয়াত আব্দুর রহমান লস্করের পুত্র। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়ার পাশাপাশি ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার উধারবন্দ বাজারে এক বিবাদের জেরে একলাছ উদ্দিনকে মারধর করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে নিজ ঘর থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা প্রায় ছয়টা নাগাদ উধারবন্দ বাজার এলাকায় কোনও একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে শফিকুর রহমান বড়ভূঁইয়ার সঙ্গে একলাছ উদ্দিনের বচসা বাঁধে। অভিযোগ, তর্কাতর্কির একপর্যায়ে একলাছের উপর শারীরিক হামলা চালানো হয়। মারধরের মুখে কোনোরকমে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাড়ি ফেরার পর থেকেই একলাছ শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। শরীরে ব্যথা, দুর্বলতা এবং আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন তিনি। এরই মধ্যে অভিযুক্ত পক্ষের তরফে উল্টে একলাছের বিরুদ্ধে উধারবন্দ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের।
মামলার সূত্র ধরে সোমবার রাতেই পুলিশ একলাছের বাড়িতে যায়। তবে পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে পুলিশও তাঁকে থানায় না নিয়ে ফিরে যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সকালে একবার একলাছকে ঘরের বাইরে দেখা গেলেও তারপর থেকে তিনি আর বাইরে বের হননি। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সন্দেহ হলেও তাঁরা ভেবেছিলেন তিনি হয়তো বিশ্রাম নিচ্ছেন।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ কোনও সাড়া না পেয়ে পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানেই তাঁরা একলাছ উদ্দিনের নিথর দেহ দেখতে পান। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উধারবন্দ পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
এদিকে একলাছের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সোমবারের মারধরের ঘটনাই তাঁর মৃত্যুর মূল কারণ। তাঁদের দাবি, ঘটনার পর যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো এই মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব ছিল। পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, মারধরের ঘটনার পর থেকেই একলাছ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, বর্তমানে সামান্য বিবাদও দ্রুত হিংসাত্মক রূপ নিচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ব্যক্তিগত বিরোধ মেটাতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজের জন্য বিপজ্জনক সংকেত বলেও মত তাঁদের।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বাজারের মতো জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠলেও কেন সময়মতো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হলো না? আবার একলাছের শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকার পরও তাঁর পর্যাপ্ত চিকিৎসা হয়েছিল কিনা, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, আমরা চাই সত্য সামনে আসুক।
যদি মারধরের কারণেই মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুরো ঘটনাকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে। পাশাপাশি মারধরের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধ এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






