বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৫ মেঃ মাদক কারবারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ফের বড়সড় সাফল্য অর্জন করল ধলাই পুলিশ। ধলাই থানা এলাকার ৩০৬ নম্বর জাতীয় সড়কের কাটাখাল এলাকায় বিশেষ নাকা তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক কুখ্যাত মাদক পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ট্যাবলেটের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনাকে ঘিরে সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ধলাই থানার পুলিশ মঙ্গলবার গভীর রাতে কাটাখাল এলাকায় বিশেষ নাকা চেকিং শুরু করে। সেই সময় সন্দেহজনকভাবে আসা A.S11CC. 4449 নম্বরের একটি অটো রিক্সাকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় অটোর ভিতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ অটো চালক তথা মাদক পাচারকারী হীরা মনি চৌধুরীকে আটক করে।
ধৃত পাচারকারীর বাড়ি কচুদরম থানা এলাকার হায়দার বাজারে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছে বলেও সূত্রের খবর। অনুমান করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা ব্যবহার করে বরাক উপত্যকায় ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে জড়িত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট কোথা থেকে আনা হচ্ছিল এবং কার হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
এদিনের অভিযানে নেতৃত্ব দেন ধলাই থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সোমেশ্বর কোঁওর এবং লায়লাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দীবাকর গগৈ। তাঁদের নেতৃত্বে পুলিশের তৎপরতা এবং সাহসী অভিযানের প্রশংসা করছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের বক্তব্য, ধলাই ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দিনদিন যেভাবে মাদকের বিস্তার ঘটছে, তাতে যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে বহু তরুণ সহজেই এই নেশার জালে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক অশান্তি এবং সামাজিক অবক্ষয়ও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, কিছু অসাধু মাদক ব্যবসায়ী দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভে গোটা সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইয়াবার মতো ভয়ংকর মাদক শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির জীবন নয়, একটি পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ধ্বংস করে দিতে পারে। অথচ এই মরণ নেশাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা। সমাজের একাংশের দাবি, শুধু ছোটখাটো পাচারকারীকে ধরলেই হবে না, এর সঙ্গে জড়িত মূল চক্র ও প্রভাবশালী মদতদাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত পাচারকারীর বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে কঠোর মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গোটা চক্রের সন্ধানে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত ও জাতীয় সড়ক এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। ধলাই পুলিশের এই সাফল্যের পর সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন আরও কঠোর হোক এবং যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখুক।





