হাইলাকান্দির এস কে রায় হাসপাতালে চিকিৎসায় বাধা, গেটে দারোয়ানের দাদাগিরি!

হাতজোড় করে অনুনয়-বিনয় সত্ত্বেও বরফ গলেনি সিকিউরিটি গার্ডের, উল্টে রোগীর আত্নীয়দের ওপর চড়াও হয়ে গায়ে হাত তোলার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জরুরি বিভাগের দুয়ারে যখন এক মুমূর্ষু নারী যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন, তখন চিকিৎসার বদলে চলে গেটে দারোয়ানের দাদাগিরি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সমগ্র হাইলাকান্দি শহরজুড়ে প্রশাসনিক অব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।

ঘটনার বিবরণী থেকে জানা গেছে, লালা শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শংকর দেবনাথের সহধর্মিনী মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে প্রথমে লালা প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা বিলম্ব না করে তাঁকে অবিলম্বে হাইলাকান্দি এস কে রায় সিভিল হাসপাতালে রেফার করেন। পারিবারিক সদস্যরা তড়িঘড়ি রোগীকে নিয়ে এস কে রায় হাসপাতালে পৌঁছান। বহির্বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি দেখে দ্রুত প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগে ভর্তি করার জরুরি নির্দেশ দেন।

চিকিৎসকের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই শংকর দেবনাথ তাঁর বৃদ্ধা মা এবং এক মহিলা আত্মীয়কে সাথে নিয়ে অসুস্থ স্ত্রীকে স্ট্রেচারে করে প্রসূতি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ভবনের প্রবেশপথে। অভিযোগ, ওয়ার্ডের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তারক্ষী তাঁদের সাফ জানিয়ে দেন যে রোগীর সাথে তিনজন আত্মীয় একসাথে ঢুকতে পারবেন না।

শংকর দেবনাথ ও তাঁর পরিবার বারবার আকুতি জানান যে, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন এবং মহিলা রোগীকে স্ট্রেচার থেকে তুলতে ও সামলাতে একাধিক সহকারীর প্রয়োজন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোগীর পরিবার হাতজোড় করে বিনম্র অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও নিরাপত্তারক্ষীর মন গলেনি। তর্কবিতর্ক চলাকালীন যন্ত্রণায় কাতর প্রসূতিকে প্রসংগহীনভাবে দীর্ঘক্ষণ করিডোরের ঠাণ্ডা মেঝতেই স্ট্রেচারে ফেলে রাখা হয়।

অভিযোগ আরও তীব্র হয় যখন প্রতিবাদ করতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী অশালীন আচরণ করেন এবং গায়ে হাত তুলে ঠেলা-ধাক্কা দেন। হাসপাতাল চত্বরে পরিবারটির চিৎকার ও বচসা শুনে এগিয়ে আসেন উপস্থিত অন্যান্য রোগী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের তীব্র প্রতিবাদ ও মধ্যস্থতায় অবশেষে নিরাপত্তারক্ষী পিছু হটে এবং ওই আশঙ্কাজনক রোগীকে স্ত্রীরোগ বিভাগে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়।

জরুরি চিকিৎসার মুহূর্তে এই ধরণের অমানবিক ও বেপরোয়া আচরণে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শংকর দেবনাথ ও তাঁর পরিবার এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, হাসপাতাল কি অসুস্থ মানুষকে সেবা দেওয়ার জায়গা, নাকি নিরাপত্তারক্ষীদের দাদাগিরি দেখানোর আখড়া? ভুক্তভোগী পরিবার ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একইসাথে স্থানীয় বিধায়ক মিলন দাস এবং জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দোষী নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। হাইলাকান্দি সিভিল হাসপাতালে সিকিউরিটি গার্ডদের এমন গুণ্ডামি ও অসংবেদনশীল আচরণ নতুন নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিকরা। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার আলো পৌঁছানোর আগেই যদি সুরক্ষার নামে সাধারণ মানুষকে এমন হেনস্থার মুখে পড়তে হয়, তবে প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ কোথায় যাবেন, সেই বড় প্রশ্নই এখন হাইলাকান্দির বাতাসে ভাসছে।

Related Posts

ভোটে হেরে ইভিএম ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করাই কংগ্রেসের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে: শ্রীভূমি জেলা বিজেপি

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি তুলে কংগ্রেস দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে: সঞ্জীব বণিক বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩০ সেপ্টেম্বরঃ নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী কংগ্রেস ও শাসকদল বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর ফের তীব্র হয়ে…

পুজোর দোরগোড়ায় মদে ভাসছে কাটিগড়া! আবগারি ও পুলিশের সুরক্ষায় রমরমিয়ে চলছে অবৈধ কারবার

গুমড়ায় ধৃত মদ ব্যবসায়ীদের বিস্ফোরক বয়ান, ওয়াইন শপে টাকা জমা দিয়েই চলত পুলিশের ম্যানেজ ফর্মুলা! বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩০ সেপ্টেম্বরঃ দোরগোড়ায় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে যখন কাটিগড়া জুড়ে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *