শিলান্যাসের ৫ মাসেও শুরু হয়নি কাজ! ২০ লক্ষ টাকার ঘাট প্রজেক্ট ঘিরে বড়খলায় দুর্নীতির ধোঁয়াশা

ডলু-বড়খলা জেলা পরিষদ এলাকার বড়খলা বাজার সংলগ্ন স্থানে বিসর্জন ও ছটপূজার সুবিধার্থে ঘাট নির্মাণের প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিল জেলা প্রশাসন। তৎকালীন কাছাড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কঙ্কন নারায়ণ সিকদার নিজে উপস্থিত থেকে মহাসমারোহে এই ২০ লক্ষ টাকার ঘাটের শিলান্যাস করেছিলেন। এলাকা ঘিরে তৈরি হয়েছিল আশার আলো। কিন্তু বর্তমান বাস্তব অত্যন্ত করুণ। শিলান্যাসের সেই স্মৃতিচিহ্ন ছাড়া ঘাটের জায়গায় আজও এক কোদাল মাটিও ওঠেনি। উল্টে নদীপাড়জুড়ে জমে রয়েছে আবর্জনা আর কচুরিপানার স্তূপ।

কাজের কোনো নামগন্ধ না থাকায় বড়খলার সর্বস্তরের মানুষের মনে ক্রমশ দানা বাঁধছে মারাত্মক আশঙ্কা। ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের প্রশ্ন, প্রশাসনের লাল ফিতের ফাঁসে আটকে গিয়েছে কাজ, নাকি কোনো অলৌকিক ছোঁয়ায় কাজ শুরু না করেই সরকারি কোষাগারের ২০ লক্ষ টাকা উধাও হয়ে গেল? যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও অর্থ তছরুপের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তবে প্রশাসনের দীর্ঘ নীরবতা ও ঠিকাদারি সংস্থার ভূমিকা এই সন্দেহকে প্রতিদিন আরও জোরালো করে তুলছে।

সামনেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব, তার পরপরই ছটপূজা। প্রতি বছর বড়খলা বাজার ও সংলগ্ন এলাকার ডজনখানেক মণ্ডপের প্রতিমা এই নদীপাড়েই বিসর্জন দেওয়া হয়। ঘাট সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় পুজো উদ্যোক্তা ও সাধারণ দর্শনার্থীদের।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই সুর চড়িয়েছে স্থানীয় সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন ‘বড়খলা সেডো’ এবং ‘মাতৃভূমি ক্লাব’। বড়খলা সেডোর সম্পাদক অজিত দাস স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি চাই না, আমরা শুধু সত্যটা জানতে চাই। পাঁচ মাস ধরে সরকারি টাকা আটকে কেন কাজ বন্ধ রাখা হলো? বরাদ্দের ২০ লক্ষ টাকার হিসাব কার কাছে রয়েছে, তা অবিলম্বে প্রকাশ করা হোক।

একই সুর মাতৃভূমি ক্লাবের প্রতিনিধিদের কণ্ঠেও। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোট বা উৎসব এলেই নেতাদের প্রতিশ্রুতির বন্যা ভেসে আসে। কিন্তু কাজ শেষে পড়ে থাকে শুধুই হতাশা। বিসর্জনের সময় এই ভাঙা ও বিপজ্জনক ঘাটে কোনো অঘটন ঘটলে তার দায় কি জেলা পরিষদ নেবে? উৎসবের দিন গুনছে বড়খলাবাসী। এই অবস্থায় বড়খলা সেডো, মাতৃভূমি ক্লাব ও স্থানীয় ভুক্তভোগী জনতার যৌথ দাবি, অবিলম্বে প্রকল্পের বর্তমান স্থিতি, ২০ লক্ষ টাকার ব্যবহারিক হিসাব এবং বিলম্বের সঠিক কারণ জনসমক্ষে স্পষ্ট করতে হবে। সাথে সাথে দুর্গোৎসবের আগেই আপৎকালীন ভিত্তিতে কাজ শুরু করে ঘাটটিকে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে হবে।

পাঁচ মাস আগে ঘটা করে করা সেই শিলান্যাস কি তবে শুধুই জনগণের চোখে ধুলো দেওয়ার এক রাজনৈতিক নাটক ছিল? নাকি এবার প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার পরিচয় দেবে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বড়খলাবাসীর মনে। প্রতিশ্রুতির পর বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা মানুষজনের নজর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের এই উদাসীনতার অবসান ঘটিয়ে প্রশাসন আদৌ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, নাকি শিলান্যাসের আনুষ্ঠানিকতাই হয়ে থাকে শেষ কথা।

Related Posts

দুই বছরের নীরবতার পর পিএম কেয়ার্সের হিসাব প্রকাশ, ৮,৪৫২ কোটি টাকা তহবিলে পড়ে রয়েছে

এক বছরে খরচ মাত্র ৮৭ লক্ষ, অনুদান ও সুদে আয় ১,২০০ কোটির বেশি, স্বচ্ছতা নিয়ে সোচ্চার বিরোধীরা বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৯ আগষ্টঃ দুই বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে পিএম কেয়ার্স…

জনগণনার আগেই এনআরসি-র দাবিতে উত্তাল মণিপুর, দু’দিনের ধর্মঘটে ছাত্র সংগঠন

অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত জনগণনা বন্ধের দাবি, ১৯৫১-কে ভিত্তিবর্ষ করার প্রস্তাব, বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৯ আগষ্টঃ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে হিংসা ও অস্থিরতার…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *