অভিযুক্তরা নিখাদ ভারতীয়, এমন প্রমাণ কংগ্রেস নেতার কাছে আছে কি? সরাসরি প্রশ্ন জেলা সভাপতি সঞ্জীব বণিকের
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৮ আগষ্টঃ পাথারকান্দির বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কংগ্রেস নেতা হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী মূলত ভূমাফিয়াদের ইন্ধন যোগাচ্ছেন বলে সরাসরি অভিযোগ করেন শ্রীভূমি জেলা বিজেপি সভাপতি সঞ্জীব বণিক।অন্যদিকে জেলা বিজেপি প্রাক্তন সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন গোটা ঘটনা নিয়ে এবার ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী হাফিজ রশিদ চৌধুরী।
সোমবার জেলা বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সভাপতি সঞ্জীব বণিক বলেন, ঘর থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় বিজেপির বুথ সভাপতি বিকাশ ধরকে।ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে আটক করে। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে পাথারকান্দির বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল অভিযোগ করেন সরকার জমি জবরদখল করে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশীরা হত্যাকান্ডে জড়িত রয়েছে। এরপরই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হন বিগত লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কংগ্রেস প্রার্থী তথা আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী।

মন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজ্যপাল ও ডিজিপিকে অভিযোগ করেন হাফিজ রশিদ আহমদ চৌধুরী।মুলত শান্ত পরিস্থিতিকে অশান্ত করে তোলার লক্ষ্যে কংগ্রেস নেতা এসব করছেন বলে অভিযোগ করেন বিজেপি জেলা সভাপতি।বলেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল যাদের বাংলাদেশী আখ্যা দিয়েছেন তারা সবাই যে ভারতীয় তার কোনো নথি হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরীর কাছে রয়েছে কিনা সে প্রশ্ন তোলেন সঞ্জীব বণিক।
বলেন হাফিজ রশিদ চৌধুরীর কর্মকান্ডে মনে সংশয় হচ্ছে যে পাথারকান্দিতে সরকারি জমি জবরদখলকারী ভূমাফিয়াদের ইন্ধন যোগাচ্ছেন। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করে জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে বিগত লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হাফিজ রশিদ আহমদ চৌধুরী বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন।এর আগেও তিনি পরাজিত হয়েছেন।
ফলে বিজেপির বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক।তবে বাজারিছড়ায় বুথ সভাপতির হত্যাকান্ড এবং পরবর্তীতে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী মূলত ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন। অতিতে এই জেলাকে অস্থির করার মতো পরিকল্পনা বাংলাদেশীদের ছিল বলে অভিযোগ করেন সুব্রত বাবু। বলেন কয়েকবছর আগে কংগ্রেস শাসনকালে এই জেলা থেকে বেশকজন মানুষকে বাংলাদেশে পাচার করা হয়।বাংলাদেশী সন্ত্রাসীরা ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে জেলায় প্রবেশ করে এবং কজন মানুষকে অপহরণ করে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

এমনকি মুক্তিপণ চাওয়া হয়।পরবর্তীতে কাউকে জীবিত এবং কাউকে মৃত উদ্ধার করা হয়।এসব ঘটনা নিয়ে হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী কোনো উওর দিতে পারবেন না কারণ যারা এসব করেছে তারা বাংলাদেশ থেকে এসছে,চীন বা আমেরিকা থেকে নয়। বলেন বিকাশ ধরকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের প্রতি সমমর্মিতা দেখিয়ে জেলার নাগরিক হিসেবে কি প্রমাণ করতে চাইছেন হাফিজ রশিদ আহমদ চৌধুরী সেটা এখন বড়ো প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেন সুব্রত ভট্টাচার্য। বলেন দোষীদের হয়ে আদালতে একজন আইনজীবী হিসেবে মামলা লড়তে পারেন হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী, তাতে কোনো আপত্তি নেই।
তবে প্রকাশ্যে বিভিন্ন মন্তব্য করে পরিস্থিতিতে অশান্ত করে তোলার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানান সুব্রত ভট্টাচার্য। একইভাবে বিষয়ের তীব্র নিন্দা জানান রাজ্য সভার প্রাক্তন সাংসদ মিশন রঞ্জন দাস।সোমবারের সাংবাদিক সম্মেলনে পুরপতি রবীন্দ্র চন্দ্র দেব, রাজ্যিক সদস্য অমরেশ রায়, মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের জেলা আহ্বায়ক পাপ্পু কুরি, জেলা কার্যালয় সম্পাদক অনুপ সেন, সীমা নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।





