শিলচর–আইজল রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত, টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে ৫ কিলোমিটারজুড়ে যানজট
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলচর ১০ জুনঃ অসম–মিজোরাম সীমান্তবর্তী ভাইরেংটি এক্সাইজ গেট সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে এক ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। টানা ও প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে ৩০৬ নম্বর শিলচর–আইজল জাতীয় সড়কের উপর এসে জমা হয়। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের পরিস্থিতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়েছিল।

মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করেই পাহাড়ের একাংশ ধসে সড়কের উপর এসে পড়ে। বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ রাস্তা ঢেকে ফেলায় যানবাহনের চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। ভূমিধসের কারণে জাতীয় সড়কের উভয় প্রান্তে অসংখ্য পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী যানবাহন এবং ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে পড়ে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে জরুরি পরিষেবা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং দুই রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে হঠাৎ করেই ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ের একাংশ ভেঙে পড়ে সড়কের উপর। এতে মিজোরামগামী ও আসামমুখী শত শত যানবাহন একসঙ্গে আটকে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার ধারণ করে যে, লায়লাপুর থেকে ভাইরেংটি এক্সাইজ গেট এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়। আটকে পড়া ট্রাকচালক ও যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে আটকে থাকায় তারা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন। অনেক চালক অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ফলে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একজন ট্রাকচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্ষাকালে এই পাহাড়ি পথে ভূমিধস এখন প্রায় নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বছরই একই ভোগান্তির পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই এই অঞ্চলের পাহাড়ি ঢালে ভূমিধস একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ৩০৬ নম্বর জাতীয় সড়কে বারবার যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দুই রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। তাঁদের দাবি, শুধু অস্থায়ী মাটি অপসারণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে পাহাড় কাটা নিয়ন্ত্রণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সড়ক কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি অপসারণের কাজ শুরু করে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাস্তা পরিষ্কার করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানা গেছে। প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।
উল্লেখ্য, ৩০৬ নম্বর শিলচর–আইজল জাতীয় সড়ক আসাম ও মিজোরামের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস এবং অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। ফলে এই ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটলে শুধু যাতায়াতই নয়, দুই রাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পরিবহন সংস্থা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল উভয় রাজ্যের প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তাঁদের মতে, প্রতি বছর একই সমস্যা পুনরাবৃত্তি হওয়ায় এখনই স্থায়ী গ্রহণ করা প্রয়োজন, নচেৎ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভবিষ্যতেও বারবার অচল হয়ে পড়বে। বর্তমানে পরিস্থিতির উপর নজর রেখে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে ভারী বর্ষণের কারণে পরিস্থিতি এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
এদিকে, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে আরও ভূমিধসের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক ব্যবহারকারীদের সতর্কতার সঙ্গে যাতায়াত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।





