বুদ্ধির জোরে রক্ষা ছাত্রীর, পকসো ধারায় শ্রীঘরে লম্পট
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ আগষ্টঃ যখন সমগ্র দেশ স্বাধীনতা দিবসের গর্ব ও মহান জাতীয় মর্যাদায় আত্মহারা, ঠিক তখনই বদরপুরে ঘটে গেল এক জঘন্য, ন্যক্কারজনক ও পাশবিক কাণ্ড! স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান সেরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দশম শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে নিজ ঘরে পাশবিক অত্যাচার চালানোর চেষ্টা করল মদন পাল নামের এক দাগি অসামাজিক চরিত্র।
তবে নাবালিকার অসীম সাহস ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে সেই যৌনশিকারী। এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমগ্র বদরপুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার চরম আগুন জ্বলে উঠেছে।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা গেছে, বদরপুর সমবায় স্কুলের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী অত্যন্ত সোৎসাহে ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে বিদায় জানিয়ে নিজের বাড়ির দিকে রওনা দেয় সে। কিন্তু পথিমধ্যেই ঘাপটি মেরে বসে ছিল লম্পট মদন পাল।
নিভৃত রাস্তার সুযোগ নিয়ে সে অত্যন্ত জোরজবরদস্তি করে নাবালিকাকে ধরে নিজের ফাঁকা ঘরে টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে যায়। ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে ওই ছাত্রীর ওপর কামলালসা চরিতার্থ করতে এবং পাশবিক অত্যাচার চালাতে মরিয়া হয়ে ওঠে অভিযুক্ত মদন।
অসহায় পরিস্থিতির সামনে নতিস্বীকার না করে অসীম সাহসের পরিচয় দেয় ওই নাবালিকা। অভিযুক্ত মদন পাল যখন অনৈতিক কূকর্ম করার চূড়ান্ত চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই নিজের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে সজোরে আক্রমণ করে বসে ছাত্রটি।
লম্পট মদন সাময়িকভাবে আঘাতে বিভ্রান্ত ও কুপোকাত হতেই বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে ঘরের জানালা ভেঙে বা খুলে প্রাণপণে লাফিয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয় নাবালিকা। রক্তাক্ত ও আতঙ্কিত অবস্থায় নাবালিকাটি দৌড়ে এসে স্থানীয় বাসিন্দাদের পুরো ঘটনা জানালে মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। ক্রুদ্ধ জনতা অকুস্থলে গিয়ে লম্পট মদন পালকে ঘেরাও করে ফেলে।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, আটক হওয়া মদন পাল এলাকার এক কুখ্যাত লম্পট ও কুরুচিপূর্ণ চরিত্র। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মহিলাকে অশালীন ইঙ্গিত, মানসিক হয়রানি ও যৌন নির্যাতনের অপচেষ্টা চালানোর ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। বারবার পার পেয়ে যাওয়ার ফলেই তার দুঃসাহস এতদূর বেড়েছে যে, দেশের স্বাধীনতা দিবসের মতো দিনে এক নাবালিকা ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যেতেও তার হাত কাঁপেনি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় বদরপুর থানার পুলিশ। নির্যাতিত ওই নাবালিকা, তার পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জোরালো সাক্ষ্য ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত মদন পালকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে। অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে পুলিশ অত্যন্ত কঠোর ‘পকসো’ আইনসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
স্বাধীন দেশের পবিত্র দিনে নিজের স্কুলের পোশাক পরিহিত এক ছাত্রীর সঙ্গে এমন ঘৃণ্য আচরণে চরম উদ্বিগ্ন ও সোচ্চার সচেতন সুশীল সমাজ। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের দাবি, এমন অভ্যস্ত অপরাধীকে যেন কোনো ফাঁকফোকরে জামিন না দেওয়া হয়। ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লম্পট মদন পালকে কঠোরতম শাস্তির আওতায় এনে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জোর দাবি তুলেছে গোটা উপত্যকা।





