রোগীর বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি! ধলাইয়ে ধরা পড়ল ভূয়ো চিকিৎসক এল. প্রতাপ সিংহ
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ আগষ্টঃ রোগীর বিশ্বাস আর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ভূয়ো চিকিৎসকদের রমরমা ব্যবসা নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন দেখা যায় দিনের পর দিন প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই কোনো বৈধ নথি ছাড়া দিব্যি ‘ডাক্তার’ সেজে রোগী দেখে চলেন কেউ, তখন প্রশ্ন ওঠে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়েই।
কাছাড় জেলার ধলাই সমষ্টির অন্তর্গত ভাগাবাজার সংলগ্ন মণিপুরী মার্কেট থেকে শনিবার তেমনই এক ভুয়ো চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তিক নাম এল. প্রতাপ সিংহ। জানা গেছে, ভাগাবাজারের মণিপুরী মার্কেটে অবস্থিত ‘হেলথ কেয়ার মেডিকোস’নামের একটি ফার্মাসি/প্রতিষ্ঠানে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন এল. প্রতাপ সিংহ। চিকিৎসা সংক্রান্ত ন্যূনতম কোনো বৈধ সনদ বা কাগজপত্র তাঁর কাছে ছিল না। তা সত্ত্বেও দিনের পর দিন কোনো বাধা ছাড়াই সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন তিনি।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয়টি হলো, অভিযুক্তের এই অবৈধ কার্যকলাপের খবর প্রশাসনিক স্তরে অচেনা ছিল না। কাছাড় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম পরিচালক একাধিকবার সতর্কবার্তা জারি করেছিলেন। এই বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও এল. প্রতাপ সিংহ তা পুরোপুরি উপেক্ষা করেন। প্রশাসনের সতর্কবার্তাকে এভাবে বুড়ো আঙুল দেখানো থেকে পরিষ্কার, এই ভুয়ো চিকিৎসকের সাহস ও ঔদ্ধত্য কতটা চরমে পৌঁছেছিল।
অবশেষে প্রশাসনিক ধৈর্যের বাঁধ ভাঙায় গত ২১ জুলাই কাছাড়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর অফ হেলথ অভিযুক্ত এল. প্রতাপ সিংহের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার ভিত্তিতেই শনিবার দুপুরে পুলিশ মণিপুরী মার্কেটের ‘হেলথ কেয়ার মেডিকোস’এ ঝটিকা অভিযান চালায় এবং হাতেনাতে পাকড়াও করে এল. প্রতাপ সিংহকে। আপাতত তাকে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই গ্রেপ্তার হয়তো একটি বিশেষ ভূয়ো চিকিৎসকের কর্মকাণ্ডে সাময়িক রাশ টানল, কিন্তু কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নকে উসকে দিয়ে গেল, কোনো বৈধ নথি ছাড়া বছরের পর বছর রোগী দেখার সাহস একজন ব্যক্তি পায় কীভাবে? স্থানীয় সচেতন নাগরিক বা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এত বড় প্রতারণা কীভাবে সম্ভব হলো? গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষ অসচেতনতার কারণে এমন ভূয়ো চিকিৎসকদের ফাঁদে পড়েন।
কোনো ভুল ওষুধ বা চিকিৎসায় যদি কারও প্রাণ যেত, তার দায় কে নিত? স্বাস্থ্য বিভাগ শুধু সতর্ক করেই কেন দায়িত্ব শেষ করেছিল? প্রথমবার বেআইনি কাজ ধরা পড়ার পরই কেন তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার কারণে অভিযুক্ত ২১ জুলাই মামলা হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিন্তে রোগী দেখে যেতে পারল? ধলাইয়ের গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর লুকিয়ে থাকা এক বড় বিপদের হাতছানি।
এল. প্রতাপ সিংহদের মতো ‘মুন্নাভাই’দের বিরুদ্ধে কেবল একটি গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়, চাই কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়। প্রশাসন কি পারবে জেলার অন্যান্য প্রান্তেও অভিযান চালিয়ে এমন ভূয়ো চিকিৎসকদের পর্দা ফাঁস করতে?






