শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ জাগিয়ে নেশামুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা, রবিবার ধলাইয়ে প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক সভা
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ আগষ্টঃ মাদকাসক্তির ক্রমবর্ধমান বিস্তার আজ শুধু একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, বরং তা সমাজ, পরিবার এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য এক গভীর সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও যুবসমাজের একাংশ নেশার কবলে পড়ায় শিক্ষাজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক মূল্যবোধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মোকাবিলায় দেশব্যাপী এক বৃহৎ সামাজিক আন্দোলনের সূচনা করতে চলেছে ব্রহ্মকুমারীজ মেডিক্যাল উইং।
সংগঠনের উদ্যোগে আগামী ৬ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে পালিত হবে দশ কোটি নেশামুক্তি প্রতিজ্ঞার মহা-অভিযান। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ১০ কোটি মানুষকে নেশামুক্ত জীবনের শপথে সামিল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু শপথ গ্রহণ নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরে নেশাবিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলা, তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক জীবনদর্শনে উদ্বুদ্ধ করা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
এই জাতীয় কর্মসূচিকে সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ধলাইয়েও শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। আগামী রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্রহ্মকুমারীজ সেবা কেন্দ্রের ধলাই শাখায় অনুষ্ঠিত হবে একটি বিশেষ প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক সভা। এতে বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, যুব সংগঠনের সদস্য এবং সচেতন নাগরিকদের উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, নেশার বিরুদ্ধে লড়াই কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি শিক্ষক, প্রতিটি অভিভাবক এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিককে এই আন্দোলনের অংশীদার হতে হবে। কারণ একটি শিশু বা কিশোরের চরিত্র গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় পরিবার ও বিদ্যালয়ে। সেই কারণেই এবারের অভিযানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় দশ কোটি নেশামুক্তি প্রতিজ্ঞার মহাঅভিযান এর উদ্দেশ্য, কর্মপরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ভিত্তিক নেশাবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব, ইতিবাচক জীবনদর্শন গড়ে তোলা, ধ্যান ও মানসিক প্রশান্তির মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও আলোচনায় স্থান পাবে।
ব্রহ্মকুমারীজ মেডিক্যাল উইং এর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে মাদকাসক্তির কারণে বহু মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু শিক্ষাজীবন নয়, কর্মজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক অবস্থানও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই শিশু ও তরুণদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক মূল্যবোধ, আত্মসম্মানবোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ, মানসিক দৃঢ়তা এবং মানবিক চেতনা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেশামুক্তি বিষয়ক শপথ গ্রহণ, সচেতনতামূলক আলোচনা, প্রেরণাদায়ক বক্তৃতা, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, পোস্টার প্রচার, গণসচেতনতা অভিযান এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একাধিক কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আয়োজকদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেশার কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তাঁরা আরও বলেন, নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলার সংগ্রাম কেবল একটি কর্মসূচি নয়, এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। আগামী প্রজন্মকে নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে হলে আজই সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবার, বিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগেই নেশার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
এই প্রেক্ষাপটে ব্রহ্মকুমারীজ মেডিক্যাল উইং ধলাই শাখার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, সমাজসেবী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের রবিবারের প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত থেকে দেশব্যাপী দশ কোটি নেশামুক্তি প্রতিজ্ঞার মহা-অভিযান সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আয়োজকদের আশা, ধলাই থেকেও এই জাতীয় অভিযানে ব্যাপক জনসমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং একটি নেশামুক্ত, মূল্যবোধসম্পন্ন ও সুস্থ সমাজ গঠনের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।





