বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৬ আগষ্টঃ রামকৃষ্ণনগর সমজেলার ধলিবিল এলাকায় রাস্তার উপর গরু চলাচলকে কেন্দ্র করে এক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার জেরে ডি আই গাড়ির চালক ও এক যাত্রী আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় দুই ব্যক্তি আহত হওয়ার পাশাপাশি গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও দায়ের হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাতাবাড়ির গন্ধরাজবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আলিম উদ্দিন বুধবার সকালে একটি ডি আই গাড়ি নিয়ে রামকৃষ্ণনগরের দিকে যাচ্ছিলেন। ধলিবিল এলাকায় পৌঁছালে কয়েকটি গরু রাস্তার মাঝখানে চলে আসে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি গাড়ির গতি কমিয়ে থামান এবং গরুগুলির মালিককে সেগুলি রাস্তার পাশ দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান।
অভিযোগ, এই অনুরোধকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গরুর মালিক প্রথমে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং পরে আলিম উদ্দিনের উপর শারীরিক হামলা চালান। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে চালককে মারধর করেন।
এই সময় গাড়িতে থাকা সামস উদ্দিন নামে এক যাত্রী বাইরে এসে কী ঘটেছে জানতে চাইলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। হামলায় তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অভিযোগকারীদের দাবি, হামলাকারীরা এরপর ডি আই গাড়িতেও ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করে। খবর পেয়ে রামকৃষ্ণনগর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে রামকৃষ্ণনগর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে।
আহতদের দাবি, তাঁরা কোনও ধরনের উসকানিমূলক আচরণ করেননি। শুধুমাত্র সম্ভাব্য সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর স্বার্থে গরুগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করেই তাঁদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পরবর্তীতে আলিম উদ্দিন রামকৃষ্ণনগর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়কে অবাধে গবাদি পশু চলাচল প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকেও বড় সংঘর্ষের সৃষ্টি হতে পারে। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের উচিত একদিকে রাস্তার উপর অবাধে গবাদি পশু চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, অন্যদিকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। অভিযোগের সব দিক নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।






