ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সোনাইয়ে চাঞ্চল্য

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং অভিযুক্তকে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, বুধবার দুপুরে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. এস. জ্ঞানাবেল একটি অজুহাতে ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে নিজের কক্ষে ডেকে পাঠান। অভিযোগ, সেখানে অন্য কেউ উপস্থিত না থাকার সুযোগে তিনি ছাত্রীর সঙ্গে শ্লীলতাহানিমূলক আচরণ করেন। কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার পর ছাত্রীটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং ঘটনাটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচিতদের জানায় বলে অভিযোগ।

এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই খবরটি বিদ্যালয় চত্বরের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজিত জনতার একাংশ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অভিযুক্তকে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে সোনাই থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ অভিযুক্তকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার পর থেকেই বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় চরম উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বহু অভিভাবক প্রশ্ন তুলেছেন, যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার স্থান, সেখানে যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তবে অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে কীভাবে নিশ্চিন্ত থাকবেন? অন্যদিকে, বিকেলের পর থেকেই পূর্ব সোনাইয়ের নতুনরামনগর এলাকার উপজাতি মহিলা সমিতির সদস্য-সহ বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা সোনাই থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড। বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ শাস্তির দাবি জানান এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, শিক্ষক সমাজের পথপ্রদর্শক। একজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তবে তা শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের কাছে গভীর উদ্বেগের বিষয়। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনকে কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সোনাই থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে ছাত্রীর বক্তব্য, বিদ্যালয়ের কর্মীদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার জেরে এলাকায় যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সেজন্য সোনাই ও সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষামহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারি, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা এবং শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত অধ্যক্ষ বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলমান রয়েছে। 

Related Posts

Is Cachar’s Sewa Setu Under the Grip of a Syndicate? General Citizens Allegedly Harassed by Middlemen at the Registration Office (PFC)

Allegations of Collusion Against PFC Staff as Victims Claim Transparency Has Been Replaced by Harassment Barak Bani Digital Desk,Silchar,19 July : The Assam Government introduced the Sewa Setu platform and…

Allegations of Money Collection in the Name of Hailakandi District Social Welfare Department Spark Concern

Complaint Filed at Katakhal Police Outpost Over Alleged Fraud of ₹90,500 from Several Anganwadi Workers Barak Bani Digital Desk, Hailakandi, July 8, 2026: A serious controversy has emerged surrounding the…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *