শিলচরে স্পা-কাণ্ডের ঘটনার পর নিখোঁজ এক যুবতীকে ঘিরে শহরজুড়ে চাঞ্চল্য!

অভিযোগকারী অভিভাবকের দাবি, গত ২৫ জুন শিলচর শহরের ক্লাব রোড এলাকায় অবস্থিত ‘লাভলী’ও ‘লোটাস’নামে দুটি স্পা-তে পুলিশের অভিযানের সময় তাঁর মেয়েও গ্রেপ্তার হন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। সেই সময় পরিবারের সদস্যরা বহু চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এরপর ২৭ জুন জানতে পারেন, অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁদের মেয়েও জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু সেই মুক্তির পর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি এবং পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করেননি।

মেয়ের হদিস না পেয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর শুরু করে। অভিযোগকারীর দাবি, অনুসন্ধানের সময় তাঁরা জানতে পারেন যে, ‘লাভলী’স্পা-র সঙ্গে যুক্ত রোহিত দেবনাথের ভাই রূপক দেবনাথ নাকি ওই যুবতী-সহ একাধিক অভিযুক্তের জামিনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে যুবতীর বাবা আশঙ্কা প্রকাশ করে পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন, তাঁর মেয়েকে কোথাও অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তিনি দ্রুত তদন্ত করে মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। সেন্ট্রাল জেলের একটি সূত্রের দাবি, জামিনে মুক্তির সময় ওই যুবতীকে যিনি নিয়ে যান, তিনি নিজেকে যুবতীর ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। জেল কর্তৃপক্ষের একটি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, যুবতীও ওই ব্যক্তিকে নিজের ভাই বলেই শনাক্ত করেছিলেন। সেই ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাঁকে যুবতীর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পুলিশ যাচাই করে দেখছে, ওই ব্যক্তি সত্যিই যুবতীর আত্মীয় ছিলেন কি না, নাকি পরিচয় নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি বা প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে।

তদন্তকারী মহলের মতে, নিখোঁজের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে মামলাটি আরও জটিল আকার নিতে পারে। তবে এই মুহূর্তে মানবপাচার, অবৈধ আটক বা কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের সম্ভাবনাকে নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৫ জুন ক্লাব রোডের একটি বাণিজ্যিক ভবনে অবস্থিত ‘লাভলী’ও ‘লোটাস’স্পা-তে অভিযানের পর ২৮ জন যুবতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পান। সেই ঘটনার পর থেকেই স্পা পরিচালনার ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য বৃহত্তর নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

এখন নিখোঁজ যুবতীর অভিযোগ সামনে আসায় তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। যুবতী কোথায় আছেন, তিনি স্বেচ্ছায় অন্যত্র গিয়েছেন নাকি অন্য কোনো কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, এসব বিষয়ই তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে জামিন-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, জেল থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ, একটি বহুল আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত এক যুবতীর জামিনের পর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে গোটা ঘটনার দিকে নজর রয়েছে তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। যুবতীর অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য, অভিযোগের সত্যতা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা সবকিছুর উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গেই।

Related Posts

Is Cachar’s Sewa Setu Under the Grip of a Syndicate? General Citizens Allegedly Harassed by Middlemen at the Registration Office (PFC)

Allegations of Collusion Against PFC Staff as Victims Claim Transparency Has Been Replaced by Harassment Barak Bani Digital Desk,Silchar,19 July : The Assam Government introduced the Sewa Setu platform and…

Allegations of Money Collection in the Name of Hailakandi District Social Welfare Department Spark Concern

Complaint Filed at Katakhal Police Outpost Over Alleged Fraud of ₹90,500 from Several Anganwadi Workers Barak Bani Digital Desk, Hailakandi, July 8, 2026: A serious controversy has emerged surrounding the…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *