শিলচরের তিন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্পে গতি আনতে কড়া নির্দেশ মন্ত্রী কৌশিক রাইয়ের

সোমবার কাছাড় জেলা আয়ুক্তের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে রাংগিরখাড়ি থেকে ট্রাঙ্ক রোড পর্যন্ত প্রস্তাবিত শিলচর এলিভেটেড করিডর, বিরবল বাজার থেকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সংযোগকারী চার লেনের সড়ক এবং মালুগ্রাম-দুধপাতিল সংযোগকারী বহুল চর্চিত মধুরাঘাট (গান্ধীঘাট) সেতুর কাজের অগ্রগতি চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন মন্ত্রী।

বৈঠকে তিনটি প্রকল্পেরই বর্তমান গ্রাউন্ড পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। বিশেষ করে বিরবল বাজার থেকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত যে বকেয়া জট রয়েছে, তা দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর জোর দেন মন্ত্রী কৌশিক রায়। বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব বা লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে যাতে কোনো অবস্থাতেই প্রকল্পের কাজ এক দিনও বিলম্বিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন তিনি।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী কৌশিক রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিলচরের সাধারণ মানুষকে যানজটের অভিশাপ থেকে মুক্তি দেওয়া এবং শহরের অর্থনৈতিক গতি বাড়াতে এই প্রকল্পগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনএইচআইডিসিএল, পূর্ত ও রাজস্ব দফতরের যৌথ প্রচেষ্টায় সব বাধা সরিয়ে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত দিকনির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর কড়া বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই, অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয় মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা। প্রকল্পের স্থানগুলো সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে যৌথ অভিযানে নামেন শীর্ষ আধিকারিকেরা,

ধলাইয়ের সম জেলা আয়ুক্ত রক্তিম বরুয়া (এসিএস)র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মালুগ্রাম-দুধপাতিল সংযোগকারী প্রস্তাবিত মধুরাঘাট সেতু ও সংলগ্ন অ্যাপ্রোচ রোড পরিদর্শনে যান। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজ শুরুর আগে সাইটের বর্তমান ভৌগোলিক পরিস্থিতি, জল ও বিদ্যুৎ সংযোগের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেন এপিডিসিএল ও পিএইচইডি-এর প্রতিনিধিরা।

অন্যদিকে, বিরবল বাজার-মেডিক্যাল কলেজ সংযোগকারী চার লেনের সড়ক পরিদর্শনের দায়িত্বে ছিলেন লক্ষীপুরের সম জেলা আয়ুক্ত ধ্রুবজ্যোতি পাঠক (এসিএস)। এই দলে এপিডিসিএল, পিএইচইডি, অমরুত এবং পিবিজিএস-এর প্রযুক্তিবিদরা অংশ নেন। চার লেনের রাস্তা নির্মাণের জন্য ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আউটলেট এবং প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পোল স্থানান্তরের বিষয়গুলো সরেজমিনে পরীক্ষা করা হয়।

প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, এই তৃণমূল পর্যায়ের যৌথ পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্যই হলো বিভিন্ন ইউটিলিটি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে স্থানীয় জটিলতাগুলোকে ঘটনাস্থলেই মিটিয়ে ফেলা। অসম সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকা আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মন্ত্রীর পর্যালোচনার পরপরই মাঠপর্যায়ে এমন যৌথ তৎপরতা শিলচরের মেগা পরিকাঠামো প্রকল্পগুলোতে এক অভূতপূর্ব নতুন গতির সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে তা বরাকের যোগাযোগ মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলেই আশাবাদ প্রকাশ করছেন সুশীল সমাজ।

Related Posts

শিলচর পুরনিগম নির্বাচন: ডিগ্রিতে জালিয়াতি করলেই কপালে শনি, জাল সার্টিফিকেট জমা দিলেই শ্রীঘরে যাওয়ার রাস্তা পাকা!

ভুঁইফোড় বোর্ডের সার্টিফিকেট দিয়ে আর পার পাওয়া যাবে না, মেধা ও সততার অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হচ্ছে প্রার্থীদের, শিলচর পুরনিগম নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার…

শিলচরে ব্যবসার নামে লোভনীয় লভ্যাংশের ফাঁদ পেতে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শিলচরের বেরেঙ্গার সাদ্দামের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

গ্রেপ্তারির পর জামিনে বেরিয়ে সামাজিক বিচারসভার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ; ২৫ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই উধাও প্রতারক। বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলচরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *