উগ্র আঞ্চলিকতাবাদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালকে স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত বরাকের সংগঠনগুলির
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২২ আগষ্টঃ প্রতিবাদী সভায় বক্তারা তথ্য তুলে ধরে জানান, গত ১৯ আগস্ট থেকে তথাকথিত পাঁচ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে উগ্র সংগঠন ‘খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ এর ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। তবে আন্দোলনের আড়ালে শিলং শহরের একাধিক স্থানে বাঙালি, অসমীয়া ও অন্যান্য অ-খাসি সম্প্রদায়ের ওপর সঙ্ঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, জাতীয় আন্দোলনের মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি ভাঙচুর করা হয় এবং স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে কুৎসিতভাবে আঘাত হানা হয়। শুধু তাই নয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে মেঘালয়ে ঘুরতে যাওয়া নিরীহ পর্যটকদের ওপরও অমানবিক আক্রমণ চালানো হয়েছে।
সভায় প্রবীণ নেতাজি গবেষক ও লেখক নীহার রঞ্জন পাল অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে বলেন, এই ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ ও সংকীর্ণ মানসিকতা নতুন কিছু নয়। অতীতেও মেঘালয়ে অ-খাসি মানুষদের লক্ষ্য করে একই ধরনের হিংসা চালানো হয়েছে। তবে নেতাজি বা স্বামীজির মতো বিশ্ববরেণ্য মহাপুরুষদের মূর্তিতে আঘাত করা কেবল বাঙালি নয়, সমগ্র ভারতের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে অপমান করার শামিল।
প্রতিবাদী সভায় বিশিষ্ট নাগরিক সাধন পুরকায়স্থ উগ্র আঞ্চলিকতাবাদের কড়া সমালোচনা করে বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক উপায়ে যেকোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক দাবি জানানোর অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের নাম করে নিরীহ অ-খাসি মানুষদের ওপর নৃশংস হামলা বা মনীষীদের অপমান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তিনি সোজাসাপ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অ-খাসি মানুষদের ওপর এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা আমরা বরদাস্ত করব না। নেতাজি ও স্বামীজির গায়ে হাত দেওয়ার পরিণতি কিন্তু মারাত্মক হতে পারে। এর জন্য সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে মেঘালয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট উগ্র সংগঠনগুলিকে। অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন, কেবল মেঘালয় নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশপ্রেমিক মনীষীদের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতে এবং সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
প্রতিবাদী সভায় উপস্থিত নেতারা মনে করিয়ে দেন, আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সাধারণ পর্যটক, যাঁদের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতির দূরতম সম্পর্কও নেই। মেঘালয় রাজ্যের অর্থনীতি যেখানে পর্যটন শিল্পের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল, সেখানে বাইরের রাজ্য থেকে যাওয়া পর্যটকদের ওপর এমন হিংসাত্মক আক্রমণে পুরো অঞ্চলের সামাজিক সহাবস্থান ও পর্যটন শিল্প চরম হুমকির মুখে পড়বে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কবি-লেখক দীপক সেনগুপ্ত, প্রবীণ আইনজীবী সুব্রত ভট্টাচার্য্য, কৃষ্ণা দেব, মজনুল হক মজুমদার, সুবীর দেব, নেতাজী চর্চা সমিতির সুব্রত চন্দ্র নাথ, নেতাজি সুভাষ ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি প্রনব রায় চৌধুরী, সূর্য কান্ত সরকার, সন্তোষ দে, মিহির নন্দী, সুজিত দেব ও কৃপাসিন্ধু দেব প্রমুখ।
মেঘালয় সরকারের চরম নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করেছে শিলচরের সমাজসেবী সংগঠনগুলি। নেতাজী চর্চা কমিটি’ ও ‘নেতাজি সুভাষ ফাউন্ডেশন এর যৌথ আহ্বানে আগামী শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৪টায় শিলচরের ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদিরাম বসুর পূর্ণাঙ্গ মূর্তির পাদদেশে এক বিশাল গণ-প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
সেখান থেকেই মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা এবং মেঘালয়ের রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে একটি কড়া স্মারকলিপি পাঠানো হবে। বরাক উপত্যকার সকল সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিককে এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উগ্র প্রাদেশিকতার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে মুখর হওয়ার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।






